কিছু সঠিক তথ্য

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২১, ২১:৩৮

অদিতি রহমান

দৈনিক ইত্তেফাকের ৬৮ বছর পূর্তি সংখ্যার দুটি নিবন্ধে আমরা কিছু তথ্য বিভ্রাট পেয়েছি, যা সংশোধনের জন্য এই লেখা। ড. কামাল হোসেন ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও ইত্তেফাকের ভূমিকা’ নিবন্ধে যেখানে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া সম্পর্কে একপর্যায়ে লেখা হয়েছে, “মানিক মিয়া ‘মোসাফির’ ছদ্মনামে নিয়মিত উপসম্পাদকীয় লিখতেন। এছাড়াও ‘মিঠেকড়া ভিমরুল’ কলামটিও ওনার লেখা ছিল বলে অনেকের ধারণা।” এরপর রয়েছে ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী লিখিত ‘স্বাধীনতাসংগ্রামের প্রস্তুতিপর্বে দৈনিক ইত্তেফাকের সাহসী ভূমিকা’ নিবন্ধ। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, “পরবর্তী সময়ে ‘মঞ্চে নেপথ্যে’ কলামে মোসাফির ছদ্মনামে মানিক মিয়া নিয়মিতভাবে উপ-সম্পাদকীয় লিখতেন। এছাড়া ‘মিঠেকড়া ভিমরুল’ কলামটিও আমার খুব প্রিয় ছিল। এর লেখকও তিনি ছিলেন কি না, জানি না।” উল্লেখ করা আবশ্যক, ‘মিঠেকড়া’ উপ-সম্পাদকীয়ের লেখক ছিলেন ইত্তেফাকের তত্কালীন প্রধান সহকারী সম্পাদক প্রয়াত আহমেদুর রহমান এবং তিনি ‘ভীমরুল’ ছদ্মনামে লিখতেন। প্রসঙ্গত, আহমেদুর রহমান মৃত্যুবরণ করেন ১৯৬৫ সালে মাত্র ৩২ বছর বয়সে, কায়রোয় বিমান দুর্ঘটনায়। তার মৃত্যুর অনেক পরে তার রচনাবলির খণ্ডাংশ প্রকাশিত হয় ‘আহমেদুর রহমান রচনাবলী’ নামে (মুক্তধারা প্রকাশনী), যেখানে ‘মিঠেকড়া’ কলামের নির্বাচিত অংশ সংকলিত হয়েছে।

এছাড়া বাংলা একাডেমি থেকে ১৯৯০ সালে কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনায় ‘আহমেদুর রহমান’ শিরোনামে আরেকটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। দুটি গ্রন্থেই অসংখ্য প্রমাণ ও রেফারেন্স রয়েছে যে ‘মিঠেকড়া’ উপসম্পাদকীয়সমূহ ‘ভীমরুল’ ছদ্মনামে আহমেদুর রহমানের লেখা। “আহমেদুর রহমান” গ্রন্থটির সূত্রে এটিও জানা যাবে যে ১৯৫৯ সাল থেকেই তিনি ‘মিঠেকড়া’ উপসম্পাদকীয় লেখা শুরু করেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত লিখে গিয়েছেন। মৃত্যুর আগে তার লেখা শেষ কলামটিসহ শেষ আটটি কলামের বিষয়বস্তুর রেফারেন্সও এই গ্রন্থে লিপিবদ্ধ রয়েছে। আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে আশা করতে চাই, ড. কামাল হোসেন এবং ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরীর লেখাদ্বয়ে এই তথ্য ও ইতিহাসবিভ্রাট অনিচ্ছাকৃত। একই সংখ্যায় সাবেক ছাত্রনেতা নূরে আলম সিদ্দিকীর নিবন্ধে লেখা হয়েছে, “৬৪-এর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর আইয়ুব খানের মুসলিম লীগ যখন পূর্ব পাকিস্তানে একটি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করে, তখন সিরাজ ভাই কাঠের হরফে আট কলামের শিরোনাম করেন—‘পূর্ব-বাংলা রুখিয়া দাঁড়াও’।” এখানে উল্লেখ্য, ১৯৬৪ সালের দাঙ্গাকালে দৈনিকসমূহে এবং লিফলেট আকারে প্রচারিত ঘোষণাপত্র ‘পূর্ব পাকিস্তান রুখিয়া দাড়াও’ আহমেদুর রহমানের রচনা বলে স্বীকৃত, এটি সংকলিত রয়েছে “আহমেদুর রহমান” গ্রন্থে। দৈনিক পত্রিকার একটি শিরোনামের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মূল ঘোষণাপত্র ও তার লেখকের উল্লেখ না করা তথ্য ও ইতিহাসবিভ্রান্তির সুযোগ করে দেয়।

n আহমেদুর রহমান-হাবিবুর রহমান মিলন

পরিবারের পক্ষ থেকে