বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা
নাটোরের বড়াইগ্রামের নাইমুর রহমান শোভন (২৪) নরসিংদীতে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। সেখানে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে বিক্রয় কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি নিয়েছিলেন তিনি। এর মাত্র দুই মাসের মাথায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হলো তাকে। গতকাল সোমবার সকালে নরসিংদী শহরের ভেলানগরের চিনিশপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শোভন বড়াইগ্রাম উপজেলার তারানগর গ্রামের শফিকুর রহমান ওরফে বক্কার মুহুরীর ছেলে।
জানা গেছে, নিহত শোভন নরসিংদীতে সেঞ্চুরি এগ্রো লিমিটেড নামের একটি ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নিহতের স্বজনরা জানান, তিনি নরসিংদী শহরের ভেলানগর এলাকার ঢাকা বাসস্ট্যান্ডের পেছনে একটি মেসে ভাড়া থাকতেন। তিনি দুদিনের ছুটি কাটিয়ে শনিবার বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে নরসিংদী যান। এ সময় আশিক নামে এক বন্ধুও তার সঙ্গে যায়। সোমবার ভোরে বন্ধুকে ঢাকার ট্রেনে তুলে দিয়ে তিনি মোটরসাইকেলেই মেসে ফিরছিলেন। পথে অজ্ঞাত খুনিরা তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। নিহতের লাশ আনতে নরসিংদীতে থাকা চাচাতো ভাই বিপ্লব মোবাইল ফোনে জানান, সকালে খবর পেয়ে আমরা তার লাশ নিতে এসেছি। তার বুক, হাতসহ শরীরের পাঁচ জায়গায় ছুরিকাঘাত করেছে দুর্বৃত্তরা। লাশের পাশেই তার বাইকটি পড়েছিল। টাকা-পয়সা, মোবাইল সবই আছে—শুধু ভাই নেই। কী কারণে, কারা তাকে হত্যা করেছে, কিছুই বুঝতে পারছি না।
এ ব্যাপারে বড়াইগ্রাম থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবদুুর রহিম জানান, বিষয়টি শুনেছি। নিহতের স্বজনরা লাশ আনতে নরসিংদী গেছেন। আর যেহেতু ঘটনাস্থল নরসিংদী, তাই সেখানকার পুলিশ এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে। নরসিংদী মডেল থানার ওসি বিপ্লব কুমার চৌধুরী মোবাইলে জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ভোর ৫টার আগে ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
