তিন দফা পূরণ না হলে আমরণ অনশন করবেন প্রাথমিকের শিক্ষকরা

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২১, ২২:৪৮

৫০ শতাংশ কার্যকর চাকরিকালের ভিত্তিতে শিক্ষকদের টাইমস্কেল বহাল রাখাসহ ৩ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতি। দাবি আদায় না হলে আমরণ অনশনেরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে সংগঠনটির পক্ষ থেকে। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়।      সংবাদ সম্মেলনে সমিতির মহাসচিব মো. মুনছুর আলী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি শিক্ষক মহাসমাবেশে ঘোষণার মাধ্যমে ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কর্মরত ১ লাখ ৪ হাজার ৭৭২ জন শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণ করেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তত্কালীন কর্তৃপক্ষ অধিগ্রহণকৃত প্রাথমিক শিক্ষকদের (চাকরি শর্তাদি নির্ধারণ) বিধিমালা এসআরও নং ৩১৫ আইন ২০১৩ প্রণয়ন করে গেজেট প্রকাশ করেন। সেই আলোকে ২০১৪ সালের জুন মাস থেকে এটি কার্যকর করা হয়। কিন্তু আকস্মিকভাবে বিধিমালার ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে আট বছর পর অর্থ মন্ত্রণালয় ২০২০ সালের আগস্ট মাসে একটি পরিপত্র জারি করে। যার ফলে টাইমস্কেল বাতিল করে অর্থ ফেরত নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষক ও তাদের পরিবারের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক শিক্ষকেরা জ্যেষ্ঠতা, পদোন্নতি ও টাইমস্কেল থেকে সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন।

শিক্ষক কল্যাণ সমিতির দাবিগুলো হলো—২০২০ সালের আগস্ট মাসে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রটি প্রত্যাহার করে ৫০ শতাংশ কার্যকর চাকরিকালের ভিত্তিতে টাইমস্কেল বহাল রাখা, ৫০ শতাংশ কার্যকর চাকরিকালের ভিত্তিতে শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি দেওয়া এবং অধিগ্রহণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নাম গেজেট থেকে বাদ পড়ায়, সেটি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা।

এসব দাবি ২২ জানুয়ারির মধ্যে আদায় না হলে আগামী ২৪ জানুয়ারি সব জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। একই সঙ্গে ঢাকায় অবস্থান ও আমরণ অনশন কর্মসূচি পালনেরও হুঁশিয়ারি দেন তারা।