মার্কিন গণতন্¿ের প্রতীক বলে পরিচিত ক্যাপিটল হিলের ভেতরে তাণ্ডবের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিশংসনের দাবি ওঠেছে। আজকের মধ্যেই এ নিয়ে ভোট হয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের হুইপ জেমস ক্লাইবার্ন। যদিও ২০ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার শেষ দিন। এদিকে কংগ্রেস ভবনে হামলার পর অনেক মার্কিন সংস্থা রিপাবলিকানদের অনুদান দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। খবর বিবিসির
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটরা উন্মত্ত জনতাকে অভ্যুত্থানে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনার পরিকল্পনা করছেন। যদি অভিশংসন প্রক্রিয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যায় তাহলে ট্রাম্প হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দুই বার অভিশংসন হওয়া একমাত্র প্রেসিডেন্ট। সেজন্য অভিশংসন অভিযোগ হাউজে ভোটে পাশ হতে হবে। তারপর বিষয়টি সিনেটে যাবে যেখানে প্রেসিডেন্টকে অপসারণ করতে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট দরকার হবে। শুধু ডেমোক্র্যাট নয়, রিপাবলিকানদের অনেকেই তার বিরুদ্ধে সেদিন সমর্থকদের উসকে দেওয়ার অভিযোগ করছেন। রিপাবলিকান সিনেটর প্যাট টুমি ট্রাম্পের পদত্যাগ দাবি করেছেন। এর আগে আলাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মারকাউস্কি প্রথম ট্রাম্পের পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। নেব্রাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর বেন স্যাসেও ট্রাম্পের অভিশংসন নিয়ে কথা বলেছেন। আরো এক রিপাবলিকান, ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক গভর্নর আর্নল্ড সোয়ার্জিনেগার ট্রাম্পকে সবচেয়ে জঘন্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আগেও একবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনা হয়েছিল। কিন্তু তা অনুমোদিত হয়নি। রিপাবলিকানদের সমর্থন না পেলে তা হওয়া কঠিন। একথা ঠিক, রিপাবলিকান নেতারাও ক্যাপিটলে তাণ্ডব নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন। কিন্তু তার মানে রিপাবলিকান পার্টি ট্রাম্পকে সরাতে চাইবে, এমন নয়। কিন্তু যেখানে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদে থাকার মেয়াদ আর মাত্র কয়েক দিন, সেখানে কেন তাকে ইমপিচ করতে চাওয়া হচ্ছে। এমন প্রশ্নে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি জানিয়েছেন, আমাদের সংবিধান ও গণতন্¿কে বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে। ট্রাম্প গণতন্¿ ও সংবিধানের ক্ষেত্রে বিপদের কারণ।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রিয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে রবিবার হোয়াইট হাউজ থেকে জানানো হয়েছে মঙ্গলবার ট্রাম্প টেক্সাসে যাবেন মেক্সিকোর সঙ্গে সীমান্তে যে দেওয়াল তোলা হচ্ছে তার কাজ পরিদর্শন করতে। তার প্রশাসন কি কাজ করেছে সেটি তুলে ধরতে চান তিনি। হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে অভিশংসনের উদ্যোগকে রাজনৈতিক চাল বলে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এতে দেশের মধ্যে বিভাজন আরো বৃদ্ধি পাবে। ওদিকে দাঙ্গার দিন কয়েক জন পুলিশের বিরুদ্ধে সাদা পোশাকে সেদিনকার র্যালিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর তা তদন্ত শুরু হয়েছে। তাদের কাজ থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
অনুদান বন্ধ
ক্যাপিটল ভবনে আক্রমণ এবং জো বাইডেনকে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেনে না নেওয়ার জন্য রিপাবলিকান সিনেটরদের অনুদান বন্ধ করছে একাধিক মার্কিন সংস্থা। এর মধ্যে জেপি মর্গান, সিটি গ্রুপ, ম্যারিয়ট ইন্টারন্যাশনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা রয়েছে।
