আওয়ামী লীগ নেতা খুনের আসামিকে মনোনয়নের সুপারিশে তৃণমূলে ক্ষোভ

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২১, ০০:১৯

আওয়ামী লীগ নেতা খুনের এক আসামিকে চুনারুঘাট পৌরসভার মেয়রপদে দলীয় মনোনয়নের সুপারিশ করায় চুনারুঘাটে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে যে কোনো সময়ে সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা গ্রহণযোগ্য কাউকে দলীয় মনোনয়ন দিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে লিখিত দরখাস্ত দিয়েছেন।

মেয়রপদে দলীয় সুপারিশ কেন্দ্রে পাঠানোর জন্য গত মাসে চুনারুঘাট পৌরসভা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। নিয়মবহির্ভূতভাবে উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের দলবল নিয়ে ঐ সভায় হাজির হন । গত উপজেলা নির্বাচনে তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। এ নিয়ে দলের মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়। বর্ধিত সভায় মেয়র প্রার্থী হিসাবে তিনি তার ভাতিজা সাইফুল ইসলামের নাম এককভাবে কেন্দ্রে পাঠানোর জন্য চাপ দেন ।

উল্লেখ্য পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক নাজমুল হাসানের পিতা আবুল হোসেনের হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কিছুদিন আগে পুলিশ সাইফুলকে গ্রেফতার করেছিল। গ্রেফতারকৃত দুজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে এই হত্যার সঙ্গে সাইফুলের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। মামলাটি তদন্তাধীন এবং বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। এছাড়া সাইফুল পর পর দুবার মেয়র নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন। তিনি গত উপজেলা নির্বাচনেও বিদ্রাহী প্রার্থীর পক্ষেও প্রচারণায় অংশ নেন। এ কারণে উপজেলা যুবলীগ তাকে বহিষ্কার করে। এসব কারণে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সাইফুলের নাম কেন্দ্রে পাঠানোর বিষয়ে বর্ধিত সভায় প্রবল আপত্তি দেয়। তারা সব সময় এক ব্যক্তিকে মনোনয়ন না দিয়ে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির দাবি জানায়। পরে পাঁচ জন প্রার্থীর নাম কেন্দ্রে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু আবু তাহের দলে অন্য প্রার্থীদের অবদান, তাদের দলীয় পদবীর বিবরণ বিকৃত এবং গোপন করে ভাতিজার পক্ষে মনের মাধুরি মিশিয়ে লিখে কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠান। এর প্রতিবাদে মনোনয়ন প্রত্যাশী অপর চার প্রার্থী এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সাংবাদিক সম্মেলন এবং দলীয় প্রধানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এদিকে বর্ধিত সভায় পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়েরের নামও প্রার্থী হিসাবে কেন্দ্রে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু তার নাম কেন্দ্রে না পাঠানোর কারণে তিনি ক্ষোভে-দুঃখে পদত্যাগ করেন।