ট্রাম্পকে অভিশংসনের প্রক্রিয়া শুরু

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২১, ০০:২২

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিশংসনে প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন ডেমোক্র্যাটরা। গতকাল সোমবার এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। কাল বুধবার এ নিয়ে ভোটাভুটি হতে পারে। প্রস্তাবটি পাস হলে ডোনাল্ড ট্রাম্পই হবেন প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট যিনি দুইবার অভিশংসনের শিকার হবেন। এদিকে রিপাবলিকান পার্টি বলেছে, ডেমোক্র্যাটদের এই উদ্যোগ দেশে বিভক্তি আরো বাড়াবে। এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিনীই ট্রাম্পের অপসারণ চান। আর কংগ্রেস ভবনে হামলার পর অনেক মার্কিন সংস্থা রিপাবলিকানদের অনুদান দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। খবর বিবিসি ও সিএনএনের

প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপন করা প্রস্তাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তিনি ক্যাপিটল হিলের হামলায় উসকানি দিয়েছিলেন। প্রস্তাবে নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে ট্রাম্পের ভুয়া দাবি ও ৬ জানুয়ারি সহিংসতার আগে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তার দেওয়া বক্তব্যের কথা উল্লেখ করা হয়। এতে জর্জিয়ার রিপাবলিকান সেক্রেটারি অব স্টেটকে ফোন করার কথাও উল্লেখ করা হয় যাতে ট্রাম্প রাজ্যে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ভোট খুঁজে বের করতে তার প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। ডেমোক্র্যাটরা প্রস্তাবে আরো বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংকটের মধ্যে ফেলেছেন। গণতান্¿িক ব্যবস্থার অখ–তাকে হুমকিতে ফেলা ও শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট হিসাবে তিনি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।

অভিশংসনের প্রস্তাব প্রতিনিধি পরিষদে পাশ হলে বিষয়টি সিনেটে যাবে যেখানে প্রেসিডেন্টকে অপসারণ করতে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট দরকার হবে। শুধু ডেমোক্র্যাট নয়, রিপাবলিকানদের অনেকেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সমর্থকদের উসকে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। রিপাবলিকান সিনেটর প্যাট টুমি ট্রাম্পের পদত্যাগ দাবি করেছেন। এর আগে আলাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মারকাউস্কি প্রথম ট্রাম্পের পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। নেব্রাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর বেন স্যাসেও ট্রাম্পের অভিশংসন নিয়ে কথা বলেছেন। আরো এক রিপাবলিকান ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক গভর্নর আর্নল্ড সোয়ার্জিনেগার ট্রাম্পকে সবচেয়ে জঘন্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আগেও একবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনা হয়েছিল। কিন্তু তা অনুমোদিত হয়নি। রিপাবলিকানদের সমর্থন না পেলে তা হওয়া কঠিন। যেখানে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদে থাকার মেয়াদ আর মাত্র কয়েক দিন, সেখানে কেন তাকে ইমপিচ করতে চাওয়া হচ্ছে। এমন প্রশ্নে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি জানিয়েছেন, আমাদের সংবিধান ও গণতন্¿কে বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে। ট্রাম্প গণতন্¿ ও সংবিধানের ক্ষেত্রে বিপদের কারণ। ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ট্রাম্পকে অপসারণ না করলে আমরাই দ্রুত পদক্ষেপ নেবো। এবিসি নিউজ ও  ইপসোস পরিচালিত জরিপে বলা হয়েছে, অংশগ্রহণকারী ৫৬ শতাংশ জানিয়েছে, ২০ জানুয়ারি বাইডেনের শপথের আগেই ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করা উচিত। ৬৭ শতাংশ মনে করে চলতি সপ্তাহে কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটলে সহিংসতার জন্য ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করা উচিত। ওদিকে দাঙ্গার দিন কয়েক জন পুলিশের বিরুদ্ধে সাদা পোশাকে সেদিনকার র্যালিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর তা তদন্ত শুরু হয়েছে। তাদের কাজ থেকে বিরত রাখা হয়েছে।

রিপাবলিকানদের দ্বিমত

ন্যাশনাল রিপাবলিকান কংগ্রেসনাল ক্যাম্পেইন কমিটি এক বিবৃতিতে ক্যাপিটল হিলে হামলার কড়া নিন্দা জানিয়েছে। কমিটির চেয়ারম্যান ও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য টম এমার বলেন, মার্কিন গণতন্¿ে এই ধরনের সহিংসতার কোনো স্থান নেই। এতগুলো মানুষের জীবনহানি খুবই ভয়ানক ব্যাপার। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অভিশংসনের চেষ্টায় দেশের মধ্যে বিভক্তি আরো বাড়াবে। অথচ এই সময়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার টুইটারে নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে রবিবার হোয়াইট হাউজ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার ট্রাম্প টেক্সাসে যাবেন মেক্সিকোর সঙ্গে সীমান্তে যে দেওয়াল তোলা হচ্ছে তার কাজ পরিদর্শন করতে। তার প্রশাসন কি কাজ করেছে সেটি তুলে ধরতে চান তিনি। হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকেও অভিশংসনের উদ্যোগকে রাজনৈতিক চাল বলে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এতে দেশের মধ্যে বিভাজন আরো বৃদ্ধি পাবে।

অনুদান বন্ধ

ক্যাপিটল ভবনে আক্রমণ এবং জো বাইডেনকে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেনে না নেওয়ার জন্য রিপাবলিকান সিনেটরদের অনুদান বন্ধ করছে একাধিক মার্কিন সংস্থা। এর মধ্যে জেপি মর্গান, সিটি গ্রুপ, ম্যারিয়ট ইন্টারন্যাশনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা রয়েছে।