এইচএসসি পরীক্ষার ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২১, ১৯:১০

মো. কবির হোসেন (সুজন), প্রভাষক

ব্যবস্থাপনা বিভাগ       

নিকুঞ্জ মডেল কলেজ, ঢাকা

প্রিয়, এইচএসসি পরীক্ষার্থীবৃন্দ, অনুশীলন বিভাগে তোমাদের স্বাগতম। প্রযুক্তির কারণে গোটা বিশ্ব এক গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত হয়েছে। ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ের দ্বিতীয় পত্র হতে তোমাদের জন্য একটি উদ্দীপক ও তার উত্তর দেয়া হলো।

উদ্দীপক: কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস সংক্রমণ যখন সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে তখন সম্মূখ যোদ্ধা হিসাবে খ্যাত ডাক্তার, নার্স, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জনগণকে সচেতন করা সহ লকডাউন বাস্তবায়নে বিরাট ভূমিকা রাখে। ঝুঁকি নিয়ে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করেন। তাদের এই ঝুঁকিপূর্ণ কার্যের স্বীকৃতি হিসাবে একটি নির্দিষ্ট সময়ে করতালির মাধ্যমে এই সম্মূখ যোদ্ধাদের অভিবাদন জানানো হয় এবং তাদের কাজের প্রশংসা করা হয়। পাশাপাশি এই  সম্মূখ যোদ্ধাদের প্রণোদনা দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার।

ক) সামগ্রিক পরিকল্পনা কী?

খ) সিদ্ধান্ত গ্রহণ বলতে কী বোঝায়?

গ) উপরের উদ্দীপকে ঝুঁকিপূর্ণ কার্যের স্বীকৃতি হিসাবে অভিবাদনের কার্যটি ব্যবস্থাপনার কোন ধরনের কার্য? আলোচনা করো।

ঘ) উদ্দীপকের সর্বশেষ কার্যটি কোন ধরনের প্রেষণা পদ্ধতি হতে পারে বলে তুমি মনে করো? তোমার মতামত দাও।

উদ্দীপকের ক নং প্রশ্নের উত্তর: কোনো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগ বা অঞ্চলে যে ব্যবসায়িক কার্যক্রম থাকে তাদের সকল বিভাগ বা অঞ্চলের সমন্বয়ে যে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয় তাকে সামগ্রিক পরিকল্পনা বলে।

উদ্দীপকের খ নং প্রশ্নের উত্তর:যে কোনো কর্মপন্থা গ্রহণের একাধিক বিকল্প থেকে সর্বোত্তম বিকল্প বাছাইকরণকেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ বলা হয়।

যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নানান প্রয়োজনে বিভিন্ন উপায়ে বা বিভিন্ন পন্থায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে। এই রকম সিদ্ধান্তের আবার বিভিন্ন বিকল্প থাকে অর্থাত্ কতগুলো উপায় থাকে। তাই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের প্রয়োজনে সময় ও সামর্থ্য অনুযায়ী এই সকল সিদ্ধান্ত থেকে অতি উত্তম বা উত্তম বিকল্পকে গ্রহণ করে থাকে। এই অতি উত্তম বিকল্প গ্রহণ করাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বলা হয়।

উদ্দীপকের গ নং প্রশ্নের উত্তর:উপরের উদ্দীপকে ঝুঁকিপূর্ণ কার্যের স্বীকৃতি হিসাবে অভিবাদনের কার্যটি ব্যবস্থাপনার প্রেষণা কার্য।

প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনে কর্মীদের উত্সাহিত, অনুপ্রাণিত ও স্বেচ্ছাপ্রণোদিত করার কাজকেই প্রেষণা বলা হয়। এটি কর্মীদের ইচ্ছা ও আকাঙ্খাকে প্রভাবিত করে।

উপরের উদ্দীপকে বৈশ্বিক এই মহামারিকে সম্মূখ যোদ্ধা হিসাবে খ্যাত ডাক্তার, নার্স, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জনগণকে সচেতন করাসহ লকডাউন বাস্তবায়নে বিরাট ভূমিক রাখে। ঝুঁকি নিয়ে তারা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন। কাজের  স্বীকৃতি হিসাবে করতালির মাধ্যমে এই সম্মূখ যোদ্ধাদের অভিবাদন জানানো হয়। এতে তাদের কাজের প্রশংসা করা হয় এবং তাদের প্রতি সহমর্মিতা জানানো হয়। যেহেতু প্রশংসা সূচক অভিবাদন জানানো হয় সেহেতু প্রশংসা এক ধরনের প্রেষণা। যার ফলে কাজের  উত্সাহ বাড়ে।

উদ্দীপকের ঘ নং প্রশ্নের উত্তর:উদ্দীপকের সর্বশেষ কার্যটি আর্থিক প্রেষণা পদ্ধতি।

অর্থ ও আর্থিক সুযোগ-সুবিধার সাথে সম্পৃক্ত প্রণোদনামূলক ব্যবস্থাকে আর্থিক প্রেষণা বলা হয়্।

প্রেষণাদানের দুটি পদ্ধতি লক্ষ্যনীয়। একটি আর্থিক প্রেষণা পদ্ধতি অন্যটি অনার্থিক প্রেষণা পদ্ধতি। উপরের উদ্দীপকে করতালির মাধ্যমে  সম্মূখ যোদ্ধাদের অভিবাদন জানানো হয় এবং তাদের কাজের প্রশংসা করা হয়। পাশাপাশি এই  সম্মূখ  যোদ্ধাদের প্রণোদনা দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার। প্রণোদনায় সবসময় অর্থ জড়িত থাকে বিধায় এটি আর্থিক প্রেষণা পদ্ধতির অন্তর্ভূক্ত।

উক্ত উদ্দীপকে যে কোনো কাজে উত্সাহ সৃষ্টির জন্য প্রেষণা পদ্ধতির প্রচলন রয়েছে। এটি কখনো আর্থিক হতে পারে এবং কখনো অর্থের বাহিরে প্রশংসা, উন্নত পরিবেশ সংক্রান্ত হতে পারে। এর ফলে কাজের গতিশীলতা বাড়ে কাজ করতে আগ্রহ সৃষ্টি হয়। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে এতে সম্মূখ যোদ্ধাদের মনোবলকে সচল রাখার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রেষণা পদ্ধতির প্রয়োগ করা হচ্ছে। যা তাদের কাজের গতিকে আরো প্রাণময় করছে।