মালিকপক্ষ দুই বছরের জন্য ৫ শতাংশ স্থগিত চাইলেও ঝুঁকিভাতা হিসেবে ১৫
শতাংশ দাবি করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি ইন্ডাস্ট্রিঅলের। অন্যথায় শ্রম অসন্তোষ!
রিয়াদ হোসেন
তৈরি পোশাক খাতে মজুরি কাঠামো অনুযায়ী প্রতি বছর ৫ শতাংশ হিসেবে ইনক্রিমেন্ট বাস্তবায়ন হয়ে আসছে। তবে করোনা ভাইরাসের ফলে বিদ্যমান আর্থিক ক্ষতির পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই ইনক্রিমেন্ট দুই বছরের জন্য স্থগিত চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ। অপর সংগঠন বিজিএমইএ এমন অবস্থানের সঙ্গে একমত হলেও তারা এখনো চিঠি দেয়নি। তবে এতে ক্ষুব্ধ হয়েছে শ্রমিকপক্ষ। তারা এমন প্রস্তাবের বিরোধিতা করে উলটো করোনাকালে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার জন্য বেতনের বাইরে বাড়তি ১৫ শতাংশ ঝুঁকিভাতা দাবি করেছে। এই দাবিতে গত সপ্তাহে শ্রমসচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি)। একই সঙ্গে মালিকপক্ষের দাবি কার্যকর করা হলে, গার্মেন্টস খাতে শ্রম অসন্তোষের প্রচ্ছন্ন হুমকিও দিয়ে রেখেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় মন্ত্রণালয় এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে না। তারা চাইছে, মালিকপক্ষ বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করুক।
যোগাযোগ করা হলে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আব্দুস সালাম ইত্তেফাককে বলেন, যেহেতু এটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু, মন্ত্রণালয় এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। কারখানার মালিক, শ্রমিকপক্ষ ও সরকারের সমন্বয়ে গঠিত ত্রিপক্ষীয় সভার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তবে মন্ত্রণালয়ের অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, ইনক্রিমেন্টের বিষয়টি গেজেটে রয়েছে। মালিকপক্ষের দাবি মানতে গেলে শ্রম অসন্তোষের আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার পক্ষে নয়। বরং মালিকপক্ষ শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সমঝোতার মাধ্যমে এটির সুরাহা করুক।
শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানকে বিকেএমইএ সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমানের পাঠানো চিঠিতে করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী শিল্পের কঠিন অবস্থা তুলে ধরে বলা হয়, বর্তমানে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন খাতে বেতন-ভাতা কমানো হয়েছে। এজন্য ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার বিধানটি দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখার অনুরোধ জানানো হয়।
২০১৩ সালের মজুরি বোর্ড প্রথম গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকদের মূল বেতনের ওপর বার্ষিক ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট চালু করে। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের মজুরি বোর্ডও তা বহাল রাখে।
এদিকে মালিকপক্ষের এমন চিঠিতে ক্ষুব্ধ শ্রমিক প্রতিনিধিরা। দেশে শ্রমিক ফেডারেশনগুলোর প্রভাবশালী প্ল্যাটফরম ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি) শ্রমসচিবকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, ইনক্রিমেন্ট বন্ধ নয়, বরং করোনার সময়ে যে ঝুঁকি নিয়ে শ্রমিকরা কাজ চালিয়ে গেছে, সেজন্য তাদের সুপার ইনক্রিমেন্ট দেওয়া দরকার।
আইবিসির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত ঐ চিঠিতে বলা হয়, মালিকদের এই চিঠি প্রমাণ করে, করোনার অজুহাতে সরকারকে চাপ দিয়ে প্রণোদনাসুবিধার নামে জনগণের টাকা পকেটে ঢোকাচ্ছে। তারা যে শুধু মুনাফা বোঝেন, ইনক্রিমেন্ট বন্ধের দাবি তা প্রমাণ করে। মালিকপক্ষের দাবি কার্যকর হলে শ্রম অসন্তোষ দেখা দিলে এ দায় বিজিএমইএ ও বিকেএমইএকে নিতে হবে।
