ফসলের জমির মাটি কেটে ইটের ভাটাগুলোতে ইট তৈরি নতুন কোনো ঘটনা নয়। এই রীতি আমাদের দেশে বহুকাল ধরেই চলছে। ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে সেখানকার ইটের ভাটা মালিকরা কৃষকদের বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে কেটে নিচ্ছে হাজার হাজার হেক্টর আবাদি জমির মাটি। প্রথমে একজন কৃষক ইটভাটা মালিকদের প্রস্তাবে প্রলুব্ধ হয়ে যখন তার নিজের জমির মাটি বিক্রি করছে, তখন ঐ জমির মাটি কাটার পরে তা নিচু জমিতে পরিণত হচ্ছে এবং তার কিছুদিনের মধ্যেই পাশের জমিগুলোর আইল আবার কখনোবা পুরোপুরি জমিই ধসে পড়ছে মাটি কাটা নিচু জমিতে। যার ফলে পাশের জমিওয়ালাও মাটি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। এভাবে প্রতিবছর কমছে আবাদি জমি।
ঝিনাইদহ কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, পাঁচ বছরে ঝিনাইদহের আবাদি জমি ৫৫ হাজার হেক্টর থেকে হ্রাস পেয়ে ৫০ হাজার হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। শুধু পাঁচ বছরের ব্যবধানেই যদি ৫ হাজার হেক্টর আবাদি জমি কমে, তাহলে আর কয়েক বছর পর সেখানে ফসল চাষ করার জন্য জমি অবশিষ্ট থাকবে কি না তা ভাবার বিষয়। এহেন অরাজক পরিস্থিতি চলতে দেওয়া যায় না। এত বড় অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার কেউ কি নেই? এ ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অতিদ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
মো. লিখন হোসেন (নীরব)
শিক্ষার্থী, সমাজকল্যাণ বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
