প্রাচীনকাল থেকেই বাংলার মানুষ কুটিরশিল্পের সঙ্গে জড়িত। ঘরোয়া পরিবেশে এই শিল্প তৈরি হয়। কৃষকরা তাদের কৃষিকাজের পাশাপাশি নানা রকম শৌখিন জিনিস তৈরি করে, যা তাদের বাড়তি আয়ের একটা উত্স। কুটিরশিল্পে আছে মৃিশল্প, বাঁশ-বেত-ঝুড়ি থেকে তাঁতের কাপড়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, এসব শিল্প গ্রাম থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। আগের মতো এখন আর গ্রামের মানুষ এসব শিল্পে আগ্রহী নয়। তারা কৃষিকাজের পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে কলকারখানা এবং অনেকে বাড়িঘর নির্মাণে জোগালির কাজ করে।
একটা সময় ছিল যখন এই বাংলার মসলিন কাপড় ইউরোপ এবং আরব বিশ্বে সমধিক পরিচিত ছিল। ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের ফলে মসলিনের জায়গা দখল করে তাদের তৈরি রংবেরঙের চিকন মিহি কাপড়। যার ফলে মসলিন কাপড় হারিয়ে যায়। আগের দিনে মানুষ নিজের বাড়িতেই তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সব উপকরণ তৈরি করত। এখন এসব হারিয়ে যেতে বসেছে। বাঁশ এবং বেতের জায়গা দখল করে নিয়েছে প্লাস্টিক সামগ্রী! এবং এইসব পণ্যের কাঁচামাল আমদানি করতে সরকারকে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা খরচ করতে হয়।
কিন্তু আমরা চাইলেই কুটিরশিল্প অর্থাত্ ঘরোয়া পরিবেশে পণ্য উত্পাদন করে আমদানিনির্ভর অর্থনীতি থেকে মুক্তি পেতে পারি। বিসিকের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ কুটিরশিল্পে বছরে ৩৯ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকার পণ্য উত্পন্ন করে। মূল্য সংযোজন হয় ৩১ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা, যা দেশের জিডিপিতে যোগ হয়। আর বাংলাদেশে প্রতিবছর কুটিরশিল্পে ১৭ লাখ কর্মক্ষম লোক যোগ হচ্ছে, যা বেকার সমস্যা সমাধানের অন্যতম একটা মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত। তাই কুটিরশিল্প রক্ষায় আমাদের সচেতন হতে হবে।
জাফর ইসলাম
শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
