হাইকোর্টের রায় পুনর্বিবেচনার আহ্বান তিন সংগঠনের

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২১, ২১:৫০

নারী নিকাহ রেজিস্ট্রার

ইত্তেফাক রিপোর্ট

‘নারী নিকাহ রেজিস্ট্রার হতে পারবে না’ হাইকোর্টের এ রায় পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে বিয়ে নিবন্ধনের রাষ্ট্রীয় কাজে নারীর অংশগ্রহণকে বৈধ এবং ধর্মভিত্তিক বিবাহ নিবন্ধন আইন বাতিল করে অভিন্ন বিবাহ নিবন্ধন আইন প্রবর্তনের দাবি জানিয়েছে আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট, নারী প্রগতি সংঘ ও নারীপক্ষ। গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো পৃথক পৃথক বিবৃতিতে জোটের নির্বাহী সমন্বয়কারী জিনাত আরা হক, নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর ও নারীপক্ষের আন্দোলন সম্পাদক তামান্না খান পপি এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘১৫০ বছর আগে নারীর ভোটাধিকার নিয়ে যুক্তরাজ্যে এমন অর্বাচীন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। আধুনিকতা, উন্নয়ন ও নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের অনেকটা পথ পেরিয়ে এসে আজ একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে ‘বাংলাদেশের বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নারীদের দ্বারা নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়’ মর্মে হাইকোর্ট বেঞ্চের এই ধরনের রায়ে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, আমাদের দেশ প্রগতির দিকে নয় বরং রক্ষণশীলতার পথেই হাঁটছে।’

নারী আন্দোলন ও মানবাধিকারকর্মীরা মনে করেন, সংবিধানের ২৯(২) অনুচ্ছেদে স্পষ্টত উল্লেখ রয়েছে, কেবল ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠি, নারী পুরুষভেদে বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের অযোগ্য হবে না, কিংবা সেক্ষেত্রে তার প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাবে না। বিয়ে নিবন্ধন করানো একটি রাষ্ট্রীয় আইনগত কাজ। একজন সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বা কাজিই এই বিয়ের নিবন্ধন কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। তাই বিয়ে নিবন্ধন করার কাজে নারীকে নিষেধ করার নির্দেশনাটি বাংলাদেশের সংবিধানকে লঙ্ঘন করেছে। একই সঙ্গে মানবাধিকার সনদ, সিডো সনদ এবং জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, নারীর ঋতুস্রাব বিয়ের রেজিস্ট্রার হওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায়—আদালতের এই পর্যবেক্ষণ অযৌক্তিক এবং হাস্যকর। বিবৃতিতে আরো জানানো হয়, রায়ের পর্যবেক্ষণে নারী নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে রাতে সব জায়গায় যেতে পারবে না তাও উল্লেখ করা হয়েছে। নারীর রাতে চলাফেরায় যে প্রতিবন্ধকতা বিদ্যমান, তার দায় নারীর নয়। বরং নারীর রাতের ভ্রমণ যেন নিরাপদ হয় সে দায়িত্ব রাষ্ট্রের। তাই এই নির্দেশনা দিয়ে মূলত নারীর বিরুদ্ধে বিদ্যমান সামাজিক কূপমণ্ডুকতাকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে।