শহিদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২১, ২২:৪৪

বিশিষ্ট সাংবাদিক, প্রথম আলোর যুগ্ম-সম্পাদক মিজানুর রহমান খানের দাফন মিরপুরের শহিদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে প্রথম, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় এবং জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় তার। এরপর শেষবারের মতো মরদেহ নেওয়া হয় কাওরান বাজারে তার কর্মস্থল প্রথম আলোর কার্যালয়ের সামনে। সেখানে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানসহ সহকর্মীরা এই বরেণ্য সাংবাদিকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তার বিদেহি আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। সেখানে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও নানা পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা জানানোর সময় প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, মিজানুর রহমান খান প্রথম আলোর সঙ্গে ১৫ বছর ধরে ছিলেন। প্রথম আলোর সেরা সাংবাদিকদের একজন ছিলেন মিজানুর রহমান খান। দেশের বর্তমান সময়ে অন্যতম সেরা সাংবাদিক। তিনি সব সময় সাংবাদিকতা নিয়ে থাকতেন। সব বিষয়ে তার আগ্রহ ছিল। তিনি একজন সেরা মানুষও। পরিশ্রমী ও সত্ সাংবাদিক। তার অনুপস্থিতি প্রথম আলোর জন্য বেদনাদায়ক, দুঃখজনক। তার অভাব পূরণ করা সম্ভব নয়।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে মিজানুর রহমান খানের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জানাজায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, আইনজীবী ও সাংবাদিকেরা অংশ নেন। জানাজা শেষে মিজানুর রহমান খানের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি প্রাঙ্গণে মিজানুর রহমান খানের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানকার জানাজায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির বর্তমান ও সাবেক নেতারা অংশ নেন। এ ছাড়া ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিকেরা জানাজায় অংশ নেন। জানাজা শেষে তাকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এদিকে মিজানুর রহমান খানের মৃত্যুতে তার পরিবার ও গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করা হয়েছে। মিজানুর রহমান খানের মৃত্যুর জন্য পরিবারের অবহেলাকে দায়ী করেছেন গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। বিষয়টি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মিজানুর রহমান খানের জানাজায় উভয় পক্ষের মাঝে উত্তেজনা দেখা গেছে। জানাজা শুরুর আগে বক্তৃতায় মিজানুর রহমান খানের ভাই সিদ্দিকুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ভাইকে যখন গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, তখন তাদের কিছু অব্যবস্থাপনা চোখে পড়েছিল। কিন্তু এর পরও আমরা কোনো অভিযোগ করছি না।’ মিজানুর রহমান খানের ভাই মশিউর রহমান খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘গণস্বাস্থ্যে আমার ভাই ভর্তি ছিলেন। আমরা তাদের চিকিত্সা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অসন্তুষ্ট ছিলাম। এজন্য আমরা হাসপাতাল চেঞ্জ করেছি। এখন আমার কানে শব্দটা এসেছে যে আমরা হাসপাতাল পরিবর্তন করার কারণে ভুল করেছি, এটা জাফরুল্লাহ স্যার বলতে চেয়েছেন। উনি শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। আমাদের বিরুদ্ধে তিনি নানান ধরনের অপপ্রচারে লিপ্ত হচ্ছেন। আমরা মনে করি, তিনি নিজের বয়স ও অবস্থান বিবেচনা করবেন। আমরা শোকাহত। এর বাইরে আমাদের এখন আর কিছু বলা সম্ভব নয়।’

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মিজানুর রহমান খান মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর। মিজানুর রহমান খান করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছিলেন। তার নমুনা পরীক্ষায় গত ২ ডিসেম্বর করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। তিনি ৫ ডিসেম্বর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে ভর্তি হন। তার শারীরিক সমস্যা বাড়লে সেখান থেকে ১০ ডিসেম্বর তাকে মহাখালীর ইউনিভার্সেল  মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিত্সা দেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত শনিবার বিকালে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন দায়িত্বরত চিকিত্সক।