ট্রাম্পকে সরাতে উদ্যোগ নেবেন না পেন্স

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২১, ২২:৫৩

মার্কিন কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিলে হামলার পর প্রথম বারের মতো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে পেন্স ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অপসারণে ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের আহ্বান তিনি নাকচ করবেন। আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগামী ২০ জানুয়ারির আগে পদত্যাগ করছেন না বলেই আভাস দিয়েছেন। এদিকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই সতর্ক করে বলেছে, আগামী ২০ জানুয়ারি জো বাইডেনের শপথ ও ক্ষমতা গ্রহণের দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে সশস্ত্র বিক্ষোভ করতে পারে ট্রাম্প সমর্থকরা। খবর সিএনএন, বিবিসি ও ব্লুমবার্গের।

ওয়াশিংটন ডিসিতে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত জরুরি অবস্থা বহাল থাকবে। এই পরিস্থিতির মধ্যে পদ্যত্যাগ করেছেন মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী চাড উলফ।        ফেডারেল ইমারজেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি অ্যাডমিনিস্টেটর পিট গায়নর নতুন ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যদিকে আমেরিকান ফুটবল লীগের (এনএফএল) শীর্ষ কোচ বিল বেলিচিক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছ থেকে ‘প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম’ গ্রহণ করবেন না বলে জানিয়েছেন। ক্যাপিটল হিলে হামলার কারণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ফিরিয়ে দিয়েছেন।

গত ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলার পর থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরাতে সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের ওপর চাপ বাড়ছে। ভাইস প্রেসিডেন্টকে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য গতকাল মঙ্গলবারই প্রতিনিধি পরিষদে একটি প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা ছিল। ভাইস প্রেসিডেন্ট উদ্যোগ না নিলে ট্রাম্পকে অভিশংসনের পথে এগোবে ডেমোক্র্যাটরা। বিদ্রোহে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ট্রাম্পকে অভিশংসনে আজ বুধবার প্রতিনিধি পরিষদে ভোট হবে বলে জানিয়েছে তারা। এর মধ্যেই সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বৈঠক করেন। এ সময় তারা আগামী সপ্তাহ নিয়ে আলোচনা করেন। প্রশাসনের কাজ ও সাফল্যের শেষ চার বছর নিয়ে কথা বলেন। প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট আবারো একমত হয়েছেন যে, যারা আইন ভঙ্গ করেছেন ও ক্যাপিটলে সহিংসতা চালিয়েছেন তারা সাড়ে ৭ কোটি আমেরিকান সমর্থিত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করেন না। তারা দুই জনই মেয়াদের শেষ সময়ে দেশের পক্ষে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ক্যাপিটলে ট্রাম্প সমর্থকদের হামলার কারণে প্রেসিডেন্টের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন পেন্স। তিনি দিনটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের ‘কালো দিন’ বলে মন্তব্য করেন। তবে ট্রাম্পকে সরাতে উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি তিনি ব্যক্তিগত আলোচনায় নাকচ করেছেন। সিএনএন বলছে, মাইক পেন্স প্রায়ই ট্রাম্পের প্রতি তার শ্রদ্ধার জন্য ঘনিষ্ঠদের উপহাসের পাত্র হয়েছেন। তবে ক্ষমতায় থাকার শেষ দিনগুলোতে তাকে শান্তভাবে প্রতিবাদী অবস্থান নিতে দেখা গেছে।

এফবিআইয়ের সতর্কতা

নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শপথ নেওয়ার দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে সশস্ত্র বিক্ষোভের ব্যাপারে সতর্ক করেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো এফবিআই। ট্রাম্প সমর্থক একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী ও কট্টর ডানপন্থিরা যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের ক্যাপিটল ও ওয়াশিংটন ডিসিতে জড়ো হওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে তারা জানতে পেরেছে। ট্রাম্পপন্থিদের কর্মসূচির মধ্যে ১৭ জানুয়ারি দেশ জুড়ে বিভিন্ন শহরে সশস্ত্র বিক্ষোভ ও ২০ জানুয়ারি বাইডেনের অভিষেকের দিন ওয়াশিংটন ডিসিতে সমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে।

এফবিআইয়ের এক অভ্যন্তরীণ বুলেটিনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত ক্ষমতাসীন ট্রাম্পকে যদি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সরিয়ে দেওয়া হয় কিংবা তিনি যদি বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানে না যান তাহলে বিভিন্ন রাজ্য, স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় আদালত ভবনে ঝড়ের বেগে ঢুকে সেগুলো দখল করে নিতে একটি গোষ্ঠী ডাকও দিয়েছে। সশস্ত্র বিক্ষোভের ব্যাপারে সতর্ক করার পর বিভিন্ন রাজ্যের আইনসভায় নিরাপত্তা জোরদার করতে বলা হয়েছে। এদিকে জো বাইডেন জানিয়েছেন, তিনি ক্যাপিটল ভবনের বাইরে শপথ নিতে মোটেও ভীত নন। বাইডেনের অভিষেক অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ন্যাশনাল গার্ডের ১৫ হাজার সদস্যকে মোতায়েন করা হতে পারে। সহিংসতায় উসকানি ও উত্সাহ দেওয়া হচ্ছে এমন অ্যাকাউন্টগুলোকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো। টুইটার জানিয়েছে তারা কিউঅ্যানন ষড়যন্ত্র তত্ত্বের প্রসারে ব্যবহূত ৭০ হাজার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে। ফেসবুকও একই ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে।