পি কে হালদারের চার প্রতিষ্ঠানের ৯৬০ কোটি টাকা জব্দ

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২১, ২২:৫৩

পিকে হালদারের পিপল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডসহ ভুয়া চার প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ৯৬০ কোটি টাকা জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার দুদকের অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। অন্যদিকে এসব প্রতিষ্ঠানের পিকে হালদারের ১১ জন সহযোগীকে জিজ্ঞাসা-বাদের জন্য তলব করা হলেও গতকাল পর্যন্ত কেউ দুদকের তলবে হাজির হননি।

দুদক সূত্র জানায়, গত ৫ জানুয়ারি ইস্যুকৃত তলবি নোটিশে গতকাল নেচার এন্টারপ্রাইজ ও এমটিবি মেরিন লিমিটেডের মালিক নওশের উল ইসলাম ও তার স্ত্রী মমতাজ বেগম এবং এমটিবি মেরিন লিমিটেডের মালিক সনজিব কুমার হাওলাদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হবার কথা ছিল। তবে গতকাল তাদের কেউ কমিশনে হাজির হননি।

জব্দকৃত টাকার ব্যাপারে দুদক সূত্র জানায়, পিকে হালদার নিজে এবং আত্মীয়স্বজনদের মাধ্যমে ভুয়া প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক হিসাব খুলে পিপল লিজিংয়ের ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাত্ করেছে বলে কমিশন প্রমাণ পেয়েছে। পিকে হালদার পিপল লিজিংয়ের নওশেরুল ইসলাম, মমতাজ বেগম, বাসুদেব ব্যানার্জী ও পাপিয়া ব্যানার্জীর নামে খোলা ভুয়া কোম্পানির নামে ৩ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছেন যার মধ্যে ৯৬০ কোটি টাকা ছাড়া বাকি অর্থ এরই মধ্যে তুলে নেওয়া হয়।

তথ্যপ্রমাণের পরিপ্রেক্ষিতে এরই মধ্যে নওশেরুল ইসলামের কোম্পানির ৯৫২ কোটি টাকা, মমতাজ বেগমের নামের কোম্পানির ২.৬৯ কোটি টাকা, বাসুদেব ব্যানার্জীর কোম্পানির ৪.৬৪ কোটি টাকা ও পাপিয়া ব্যানার্জীর নামে থাকা কোম্পানির ৬১ লাখ টাকা জব্দ করেছে দুদক। বাকি অর্থ এসব ব্যক্তির হিসাবের মাধ্যমে পাচার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, পিকে হালদার রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকা অবস্থায় আত্মীয়স্বজনকে দিয়ে ৩৯টি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে থাকা ৮৩ জনের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে কৌশলে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাত্ করেন তিনি ও তার সহযোগীরা। এর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকেই ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে। কিন্তু ২০১৯ সালের মাঝামাঝিতে পি কে হালদার বিদেশে পালিয়ে যান। বর্তমানে তিনি কানাডায় রয়েছেন। এরই মধ্যে তথ্যপ্রমাণ সাপেক্ষে কমিশন তার বিরুদ্ধে প্রায় ২৭৫ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে।

এদিকে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া পিকে হালদারের স্থাবর সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গত ২৯ ডিসেম্বর ধানমন্ডির দুটি ফ্ল্যাটসহ পিকে হালদারের স্থাবর সম্পদ ক্রোকের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন আদালতে আবেদন করেন।