বিশ্বব্যাপী ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২১, ০০:৩৭

করোনাকালে স্কুল বন্ধ থাকায় বিশ্বব্যাপী ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গতকাল ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত এই বিবৃতিতে বলা হয়েছে—আরো এক বছর স্কুল বন্ধ থাকলে ক্ষতির ভার শিশুরা বইতে পারবে না। যেহেতু কোভিড-১৯ মহামারির দ্বিতীয় বছরে প্রবেশ করেছি এবং বিশ্ব জুড়ে সংক্রমণের হার বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, তাই স্কুলগুলো খোলা রাখতে বা পুনরায় খোলার পরিকল্পনায়কে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এতে বলা হয়, শিশুদের ওপর স্কুল বন্ধের বিরূপ প্রভাবের প্রমাণ রয়েছে। স্কুলগামী শিশুদের এক তৃতীয়াংশই দূরশিক্ষণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পায়নি। ফলে তাদের শিক্ষাজীবনে বিপর্যয় এনেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, স্কুলের বাইরে থাকা শিশুর সংখ্যা ২ কোটি ৪০ লাখ বৃদ্ধি পেতে চলেছে। স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুদের প্রাথমিক গাণিতিক সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একবিংশ শতাব্দীর অর্থনীতিতে সাফল্য অর্জনে যে দক্ষতার প্রয়োজন তা হ্রাস পেয়েছে। তাদের স্বাস্থ্য, বিকাশ, নিরাপত্তা এবং সার্বিক কল্যাণের বিষয়টি এই সময় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। স্কুল-কেন্দ্রিক খাবারের অভাবে শিশুরা ক্ষুধার্তই থেকে যাচ্ছে এবং এতে তাদের পুষ্টিগত অবস্থার অধপতন হচ্ছে। সমবয়সিদের সঙ্গে প্রতিদিনের যোগাযোগের অভাব এবং চলাফেরা কমে যাওয়ায় তাদের মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। স্কুল বন্ধ থাকায় তাদের ওপর নির্যাতন, শিশুবিয়ে ও শিশুশ্রমের শিকার হওয়ার সংখ্যা বেড়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি করছে। বিবৃতিতে যখনই সম্ভব দেশ জুড়ে স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত পরিহার করা উচিত বলেও উল্লেখ করা হয়। বলা হয় লকডাউনের ক্ষেত্রে, কর্তৃপক্ষ বিধিনিষেধ উঠিয়ে নিতে শুরু করার পর প্রথমেই যে প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দিবে তার মধ্যে অবশ্যই স্কুল থাকা উচিত। দূরশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে না পারা শিক্ষার্থীরা যাতে পিছিয়ে না থাকে তা নিশ্চিত করার জন্য ঘাটতি পূরণে বাড়তি ক্লাস নেওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।