অর্থ পাচারের অভিযোগ থেকে পাপুলের স্ত্রী-কন্যাকে দায়মুক্তির নথি তলব

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২১, ০০:৩৯

এমপি কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের স্ত্রী জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য সেলিনা ইসলাম ও তার মেয়ে ওয়াফা ইসলামের অর্থপাচার বিষয়ে দায়মুক্তি দেওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নথি তলব করেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য আগামী ২৪ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করেছে আদালত। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি শাহেদ নুর উদ্দিনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন খুরশিদ আলম খান। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। এ মামলার শুনানিকালে পাপুলের স্ত্রী-কন্যাকে দায়মুক্তি দেওয়া নথিতে তদন্ত কর্মকর্তা বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক মশিউর রহমানের স্বাক্ষর না থাকার বিষয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত। পরে আদালত এ সংক্রান্ত সব নথি তলবের আদেশ দেয়।

এর আগে পাপুল ও তার স্ত্রী জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী সদস্য সেলিনা ইসলামসহ চার জনের ৬১৭টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ এবং ৯২টি তপশিলভুক্ত স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ২৬ নভেম্বর অবৈধ সম্পদ অর্জন ও টাকাপাচারের অভিযোগের মামলায় কুয়েতে গ্রেফতার লক্ষ্মীপুর-২ আসনের এমপি কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের স্ত্রী এমপি সেলিনা ইসলাম ও মেয়ে ওয়াফা ইসলাম হাইকোর্টে আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করেন। পরে হাইকোর্ট তাদের আত্মসমর্পণ করতে ১০ দিনের সময় দেয়। তবে নিম্ন আদালতের অবকাশকালীন ছুটির কারণে তারা তা করতে পারেননি। তাই সময় চেয়ে তারা হাইকোর্টে আবেদন জানান। সে আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট তাদের আত্মসমর্পণে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিল।

গত ১১ নভেম্বর দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে ২ কোটি ৩১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ ও ১৪৮ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের এমপি শহিদ ইসলাম পাপুল, তার স্ত্রী সংরক্ষতি আসনের এমপি সেলিনা, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম এবং শ্যালিকা জেসমিন প্রধানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ঐ মামলায় আগাম জামিন চেয়ে তারা হাইকোর্টে আবেদন জানান।

প্রসঙ্গত, অর্থ ও মানবপাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেফতার হন এমপি শহিদ ইসলাম পাপুল। বর্তমানে তিনি কুয়েতের কারাগারেই আছেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচারসহ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত উপায়ে শত শত কোটি টাকা অর্জন করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে টাকাপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।