রেলের টিকিট কিনতে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর লাগবে

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:১৭

কালোবাজারি বন্ধে এ পরিকল্পনা

বিশেষ প্রতিনিধি

রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন জানিয়েছেন, কালোবাজারি বন্ধে রেলের টিকিট কিনতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা জন্ম নিবন্ধন নম্বর বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে। গত ১০ বছরে রেলে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস বাড়লেও টিকিট কালোবাজারিরা সব অর্জন নষ্ট করে দিচ্ছে। বদনাম হচ্ছে এ সেবা খাতের। এ ছাড়া টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে যে জেলায়, যে টিকিট বরাদ্দ দেওয়া আছে তা যেন বজায় থাকে। গতকাল রবিবার রেল ভবনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ সব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রেলের সচিব মোফাজুল হোসেন, অতিরিক্ত সচিব মজিবুর রহমান, প্লানিং অফিসার জাহাঙ্গীর হোসেন, এ ডি জি আর এইচ সামসুর জামানসহ অন্য কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরু থেকে এনআইডি বা জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের টিকিট কেনার পদ্ধতি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। একটি এনআইডি বা জন্ম নিবন্ধন নম্বরের বিপরীতে ৪টি টিকিট সংগ্রহ করা যাচ্ছে। একটি নম্বর দিয়ে প্রতিদিন একবারই টিকিট সংগ্রহ করা যাচ্ছে। ১ জানুয়ারি থেকে অনলাইনে শুরু হলেও ১৫ জানুয়ারি থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম রেল স্টেশনের কাউন্টারেও সোনার বাংলার টিকিট কিনতে এনআইডি অথবা জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিতে হচ্ছে যাত্রীদের।

অভিযোগহীনভাবে সেবা দেওয়াকেই মূল চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে রেলপথ মন্ত্রী বলেন, চাহিদার সঙ্গে যখন বাস্তবতার সামঞ্জস্য না থাকে তখন টিকিট কালোবাজারি হয়। এ কারণেই রেল স্টেশন মাস্টারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এনআইডি দিয়ে টিকিট কেনার পদ্ধতি শুরু করা প্রয়োজন।

রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, আগামী সপ্তাহে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী রেলভবনে আসবেন জানিয়ে তিনি বলেন, রেলের সেবাটা আরো কিভাবে ডিজিটাল করা যায় সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে। রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, বিশ্বে রেলের উন্নয়ন খুব দ্রুত হচ্ছে। আমরাও পিছিয়ে থাকবো না। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর ১০টি মেগা প্রকল্পের মধ্যে রেলের দুটি প্রকল্প রয়েছে। রেল এখন ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এ খাতে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার ও চীনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ট্রান্স এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বুলেট ট্রেন, স্টেশনের উন্নয়ন, টিকিট কালোবাজারি বন্ধ, দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং মনিটরিং ব্যবস্থায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

জনবল নিয়োগের বিষয়ে নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, হাইকোর্টের মামলার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সমস্যা হচ্ছে। পূর্বাঞ্চলের জন্য ৮৬ জন স্টেশন মাস্টার, আর পশ্চিমাঞ্চলের জন্য ৪৩ জন মাস্টার নিয়োগ দেওয়া হবে শিগগিরই।