সেলিম আল দীনের চলে যাওয়ার ১৩তম বার্ষিকী কাল

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২১, ১২:৩৪

বাংলা নাটকের শিকড় সন্ধানী নাট্যকার সেলিম আল দীনের ১৩তম প্রয়াণবার্ষিকী আগামীকাল ১৪ জানুয়ারি। ডক্টর সেলিম আল দীন নাটকের আঙ্গিক ও ভাষার ওপর গবেষণা করেছেন এবং ঐতিহ্যবাহী বাংলা নাট্যের বিষয় ও আঙ্গিক নিজ নাট্যে প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলা নাটকের আপন বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন।

নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ১৩তম প্রয়াণবার্ষিকী স্মরণে নাট্যসংগঠন স্বপ্নদল আগামীকাল বৃহস্পতি ও পরশু শুক্রবার অনলাইন ও মঞ্চে আয়োজন করেছে দুই দিনব্যাপী ‘নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন স্মরণোৎসব-২০২১’। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বপ্নদলের স্মরণ-শোভাযাত্রাসহ নাট্যাচার্যের সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। সন্ধ্যা ৭টায় ফেসবুক লাইভে সেলিম আল দীনের প্রস্তুতিপর্বের নাটক।

অপরদিকে, সেলিম আল দীনের ভাগ্নে রাজিব সারোয়ার জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় তার জন্মস্থান ফেনীর সোনাগাজীর সেনেরখিলে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের যৌথভাবে আয়োজন করেছে ডক্টর সেলিম আল দীন কেন্দ্র ও তার পরিবার।

১৯৭৪ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন সেলিম আল দীন। দীর্ঘদিন বাংলা বিভাগে শিক্ষকতা করার পর ১৯৮৬ সালে তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে যোগদান এবং বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি ১৯৮১-৮২ সালে তিনি এবং নাট্যনির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ গড়ে তোলেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার।

তার প্রথম রেডিও নাটক ‘বিপরীত তমসায়’। প্রথম মঞ্চনাটক ‘সর্পবিষয়ক গল্প’ ১৯৭২ সালে মঞ্চায়ন হয়। তিনি শুধু নাটক রচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি, বাংলা ভাষার একমাত্র নাট্যবিষয়ক কোষগ্রন্থ বাংলা নাট্যকোষ সংগ্রহ, সংকলন, প্রণয়ন ও সম্পাদনা করেছেন। তিনি একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, নান্দিকার পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, খালেকদাদ চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট ফেনী জেলার সোনাগাজী থানার সেনেরখিলে গ্রামে জন্মেছিলেন নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন। ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় মসজিদের কাছে তাকে সমাহিত করা হয়। তার উল্লেখযোগ্য নাটক সমূহ হলো- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, মুনতাসির, শকুন্তলা, কীত্তনখোলা, কেরামতমঙ্গল, যৈবতী কন্যার মন, চাকা, নিমজ্জন, ধাবমান, পুত্র ইত্যাদি।

ইত্তেফাক/এমআর