ধোনি-গিলক্রিস্টে শাণিত সোহান

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:২০

জান-ই-আলম

ঢাকা-সিলেট মিলে বিপিএলের দুটি পর্ব শেষ হয়েছে। প্রথম পর্বে ম্র্রিয়মাণ থাকলেও দ্বিতীয় পর্ব থেকে পারফরম্যান্সের মিছিলে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। ব্যাটিংয়ে মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, সাব্বির রহমানরা বড় ইনিংস খেলছেন। বোলিংয়ে তাসকিন আহমেদ, মাশরাফি বিন মুর্তজা, শফিউল ইসলামরা আছেন শীর্ষে।

ব্যাটিং-বোলিং নয়, শুধু উইকেটকিপিং দিয়ে বিপিএলে নজর কেড়েছেন নুরুল হাসান সোহান। ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে ছয় ম্যাচে ব্যাটিংয়ে ৫৩ রান করেছেন তিনি। তবে উইকেটের পেছনে প্রতিনিয়ত দ্যুতি ছড়াচ্ছে সোহানের গ্লাভসজোড়া। ১০ ডিসমিসালে প্রশংসা কুড়িয়েছেন এই তরুণ। যার মধ্যে সাতটি ক্যাচ ও তিনটি স্ট্যাম্পিং।

সিলেটের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে আফিফ হোসেন ও অলক কাপালিকে আউট করতে যে দুটি ক্যাচ নিয়েছেন তা ছিল অসাধারণ। সোহানের কিপিংকে ভিন্ন উচ্চতায় বিচার করতে বাধ্য করবে আপনাকে ঠিক আগের ম্যাচে সেকুগে প্রসন্নকে করা তার স্ট্যাম্পিং দেখে। অবিশ্বাস্য ক্ষীপ্রতায় স্ট্যাম্প ভেঙেছেন তিনি। সাকিবের অফ স্ট্যাম্পের বাইরে বলটা বেশ টার্ন করেছিল। ফ্লিক করতে গিয়ে ভারসাম্য হারান লঙ্কান প্রসন্ন। সেকেন্ডের ভগ্নাংশেরও কম সময়ের জন্য এক বা দুই ইঞ্চি উঁচুতে উঠে গিয়েছিল তার পা। এর মাঝেই নয়ন জুড়ানো দক্ষতায় স্ট্যাম্প ভেঙে দেন সোহান।

হাল সময়ে বাংলাদেশের সেরা উইকেটকিপার বলা হয় ২৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারকে। ঈর্ষণীয় রিফ্লেক্স, উইকেটের পেছনে সদা তত্পর সোহান। কিপিংয়ে এমন মুন্সিয়ানা দেখানোর চেষ্টা সময়সময় থাকে তার। প্রতিনিয়ত নিজেকে শানিত করেন সোহান দুই কিংবদন্তির কিপিং দেখে। ভারতের মহেন্দ্র সিং ধোনি, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক উইকেটকিপার অ্যাডাম গিলক্রিস্টকে অনুসরণ করেন এই বাংলাদেশি তরুণ। কিপিং নিয়ে কথা বলেছেন ধোনির সঙ্গেও।

গতকাল বিসিবি একাডেমি মাঠে কিপিংয়ের কারিকুরি নিয়ে সোহান বলছিলেন, ‘আমার  ধোনির সাথে কয়েকবার কথা হয়েছে। আমি উনার ভিডিওগুলো দেখি। আগে গিলক্রিস্ট যখন খেলত উনারটা ফলো করতাম। আমি ইউটিউব দেখি কোনটা আমার সাথে মানিয়ে যাবে। সেটাই সবচেয়ে বড় কথা। আমার জন্য অনুশীলনটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। খারাপ সময় আসলেও অনুশীলন করে ফেরা যায়।’

কিপিং উপভোগ করেন সোহান। উইকেটের পেছনে থেকেও সবসময় দলের জন্য অবদান রাখতে সামর্থ্যের শতভাগ দেয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তবে আত্মতুষ্টিতে ডুবতে চান না তিনি। বরং ধারাবাহিকতা ধরে রাখার দিকেই তার মনোযোগ বেশি।

লম্বা সময় উইকেটের পেছনে বাংলাদেশের গ্লাভসজোড়া আগলে রেখেছিলেন খালেদ মাসুদ পাইলট। বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়কেরও চোখ জুড়িয়েছে সোহানের কিপিং দেখে। অনুজের কিপিংয়ের স্বাতন্ত্র্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে গতকাল সাবেক উইকেটকিপার পাইলট বলেছেন, ‘সোহান উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। ওর মধ্যে কিপিংয়ের একটা আর্ট আছে। সে আসলে স্টপার নয়। স্টপার হলো অনেকে বল থামায়। ও থামানো নয়, ও কিছু একটা করতে চায়। কিপিং দিয়ে কিছু পেতে চায়। মানে ভালো ক্যাচ, ভালো স্ট্যাম্পিং। সুযোগটাকে কাজে লাগাতে চায়। ওকে দেখলেই বোঝা যায় ও উইকেটের পেছনে অনেক উপভোগ করে। ইতিবাচক জিনিস আছে, কিপিংয়ের মজাটা নিতে পারছে।’

বর্তমান সময়ে দেশের উইকেটকিপারদের মধ্যে সোহান অন্যতম সেরা বলেই রায় দিলেন পাইলট। তবে জাতীয় দলে পর্যাপ্ত সুযোগের অভাবে নিজের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ পায়নি সোহান। পাইলট বলেছেন, ‘ও অনেক ভালো কিপার। কিন্তু সেভাবে সুযোগ পায়নি বাংলাদেশ দলে। কম্বিনেশনের কারণে হয়তো। মুশফিক খেলছে, লিটন দাস খেলছে, তিন নম্বর উইকেটকিপার হিসেবে হয়তো ও সুযোগ পাচ্ছে না। তবে কিপার হিসেবে সে অনেক উঁচুমানের কিপার। কিন্তু নিজেকে প্রমাণের সুযোগটা কম পেয়েছে জাতীয় দলে।’