সম্প্রতি আরটিভি ১০ম স্টার অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে শ্রেষ্ঠ নাট্যকার ও পরিচালকের সম্মান অর্জন করেছেন মাসুদ সেজান। দীর্ঘ সময় জনপ্রিয়তাকে ধরে রেখে যিনি একের পর এক নির্মাণ করে চলেছেন অসাধারণ সব গল্পচিত্র। নন্দিত এই নির্মাতার সাম্প্রতিক কাজ ও মিডিয়ার অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেছেন খালেদ আহমেদ
বেশ কিছুদিন হলো, টেলিভিশনে আপনার নতুন কোনো ধারাবাহিক দেখছি না।
যে মেজাজ এবং পরিবেশে একটি ধারাবাহিক নাটক নির্মিত হওয়া উচিত অথবা এতদিন আমি যেভাবে কাজ করেছি, মিডিয়ার বর্তমান অবস্থা এখন সেই অবস্থানে নেই। একটি ধারাবাহিকের প্রতি পর্বের মূল্য যা ছিল, কিছু অযোগ্য মানুষ তা অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে। পুরো প্রক্রিয়াটি একটি অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও রুচিহীনতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ক্রমেই চ্যানেলগুলো আমার নাটক কেনার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেছে।
এই পরিস্থিতি কীভাবে তৈরি হলো?
চ্যানেলগুলোর দূরদর্শিতার অভাবে এবং ভুল স্ট্যাটেজির সুযোগ নিয়ে কিছু ফড়িয়া ও এজেন্সি এখন ফ্রিতে নাটক সাপ্লাই দিচ্ছে। যেহেতু তারাই বিজ্ঞাপন দেয়, বিজ্ঞাপনের টাকা কেটে রেখে তারা চ্যানেলকে যা দিচ্ছে, চ্যানেল তাতেই খুশি। নিজেদের ইনভেস্ট লাগছে না বলে, তারা মনে করছে, এই তো ভালো, এতো টাকা দিয়ে নাটক কেনার দরকার কী? মূলত চ্যানেলগুলো এখন কাওরান বাজারের মাছের চৌকি ভাড়া দেওয়ার মতো ঘণ্টা ভাড়া দিয়ে চলছে।
এতে করে রেজাল্ট কী দাঁড়াচ্ছে?
নাটক প্রিভিউ করার কোনো ক্ষমতা চ্যানেলের থাকছে না। যা সাপ্লাই আসছে, তা প্রচার করতে তারা বাধ্য হচ্ছে। মানহীন নাটকের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। মানুষ টেলিভিশনে নাটক দেখা কমিয়ে দিচ্ছে। নাটকের প্রতি দর্শকের এক ধরনের বিরক্তির জন্ম নিচ্ছে এবং তারা ফাইনালি ওটিটি প্লাটফর্মের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।
টিভি নিয়ে আপনার এই বিরক্তির অবসান কীভাবে হতে পারে?
ব্যক্তিগতভাবে আমার বিরক্ত হওয়ার কিছু নাই, আমি শুধু বাস্তব অবস্থাটি ব্যাখ্যা করলাম। আপাতত ধারাবাহিক নাটক অফ করলেও ঈদের জন্য কাজ করছি। কারণ, এখন পর্যন্ত ঈদের কাজেই চ্যানেল থেকে সরাসরি আমাকে ডাকা হয় এবং যেভাবেই হোক তারা আমার জন্য একটা ভালো বাজেট রাখে।
নাটকের মানহীনতার প্রশ্নে তাহলে কি বাজেটই একমাত্র কারণ?
না। বাজেট দশটি কারণের একটি মাত্র। বাকী নয়টি কারণের মধ্যে রয়েছে—নাটক এখন আর নাটকের মানুষদের হাতে নেই। শিল্পের প্রতি দায়বদ্ধতা, জবাবদিহিতা কোনোটিই অবশিষ্ট নেই। কিছু মানুষ এই মাধ্যমটিকেই টেনে হিঁচড়ে একটা অসম্মানের জায়গায় নিয়ে গেছে।
এখান থেকে বেরিয়ে আসার পথ কী?
চ্যানেলগুলো ব্যস্ত তাদের বহুমুখী ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে। তারা যতদিন শিল্পে মনোযোগী না হবে, ততদিন আমি কোনো আশার আলো দেখতে পাচ্ছি না। দ্বিতীয়ত, এই মাধ্যমের বিভিন্ন পেশায় যারা যুক্ত, তাদেরকে লোভ-লালসা ও সকল প্রকারের স্থূলতা থেকে বেরিয়ে নিজেদের সম্মান পুনরুদ্ধার করতে হবে।
এবার আরটিভি স্টার অ্যাওয়ার্ডে আপনি দুটি পুরস্কার পেয়েছেন। আপনার অনুভূতি কী?
কাজের স্বীকৃতির তো একটা ভালোলাগা থাকেই। একই নাটক থেকে আরো দুটি পুরস্কারসহ মোট চারটি পুরস্কার প্রাপ্তিতে একটি বাড়তি ভালোলাগা কাজ করছে। যদিও দর্শকের ভালোবাসা আমার কাছে সবচেয়ে বড় পুরস্কার।
বর্তমানে কী নিয়ে ব্যস্ত আছেন?
ওটিটি প্লাটফর্মের জন্য ওয়েব সিরিজ, আমার ইউটিউব চ্যানেল পার্বণ টিভির জন্য বেশকিছু ফিকশনের কাজ শুরু করেছি। আগামী ঈদের জন্য দুটি চ্যানেল থেকে কথা বলেছে, সেই দুটি কাজের ব্যাপারেও প্রস্তুতি চলছে।
এর আগে সিনেমা নিয়ে আপনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন, তার খবর কী?
বাংলাদেশে প্রডিউসার হান্টিংয়ের ব্যাপারটা এত সহজ যে, আমি সেই সহজ পথে যেতে পারছি না। প্রথমেই নিজের শিরদাঁড়াটা খুলে অন্য কোথাও রেখে দিতে হবে। এটা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। কাজেই স্ক্রিপ্ট রেডি করে বসে আছি।
