মফস্সল এলাকায় উন্নয়নের একটি বড় মাধ্যম হলো পৌরসভা, যার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন ও মৌলিক নাগরিকসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। একটি উলেখযোগ্য বিষয় হলো যে, বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। যা দ্রুত নগরায়ণ ও মানুষকে শহরমুখি হতে উত্সাহিত করছে। প্রতি বছর মধুপুরে নতুন বসতি পর্যবেক্ষণ করে এটি সহজে বোঝা যায়। আফসোসের বিষয়—কোনো একটি বাড়ি পরিকল্পিত স্থানে নির্মিত হচ্ছে না। যে যেভাবে যেখানে পারছে বাড়ি নির্মাণ করছে। অভিগম্যতার জন্য রাস্তা, পয়োনিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণের জন্য একটু জায়গা না রেখে ঘিঞ্জি করে বসতি গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে শুরু করে সব ধরনের কৃষিজমিতে বাড়ি তৈরির ফলস্বরূপ হালকা বৃষ্টিতে অনেক জায়গায় জলাবদ্ধতা দেখা যাচ্ছে। দেশের একটি সুন্দর জায়গা মধুপুরে দেখা যাচ্ছে ট্রাফিক জ্যাম। সেই কারণে এবারের নির্বাচন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আসন্ন পৌর নির্বাচনে মেয়রপ্রার্থীরা তাঁদের নির্বাচনী ইশতেহারে অনেক ভালো কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। অনেকে মনে করেন—যে বিষয়টি তাঁদের ইশতেহারে উঠে আসেনি, সেটি মধুপুরকে একটি পরিকল্পিত শহর করা।
পরিকল্পিত শহর গড়ার প্রত্যয় নিয়ে মেয়র ডিটেইলড ভূমি ব্যবহার প্যান করতে পারেন। তার ভিত্তিতে বাড়ি নির্মাণের ছাড়পত্র দেওয়া উচিত। ডিটেইলড এরিয়া প্যানের মাধ্যমে ২৫ শতাংশ যোগাযোগব্যবস্থার জন্য নিশ্চিত করতে হবে। মধুপুরে এখনো কোনো নির্ধারিত বাসস্ট্যান্ড নেই। বাসস্ট্যান্ড স্থাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে করে মধুপুরের যাত্রীদের ভোগান্তি অনেক কমবে। এছাড়া মধুপুরে ময়লা ফেলার কোনো জায়গা নেই। রাস্তার ধারে আবর্জনা না ফেলে এবং উপযুক্ত জায়গায় আবর্জনা ফেলার স্থান নির্ধারণ করা উচিত। মধুপুরে এখনো শিশু বা বয়স্কদের বিনোদনের কোনো জায়গা নেই। মধুপুরের বনশাই নদী ব্যবহার করে কিভাবে সে সুবিধা তৈরি করা যায়, তা ভাবা যেতে পারে। সর্বোপরি মধুপুর হবে দেশের সেরা ও পরিকল্পিত শহর।
কবির উদ্দিন, কাকরাইদ, মধুপুর, টাঙ্গাইল
