চাতলাপুর স্থলবন্দর-শমশেরনগর-মৌলভীবাজার সড়ক

২০ কিলোমিটার জুড়ে খানাখন্দ চলাচলে দুর্ভোগ

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২১, ২২:১৩

মৌলভীবাজার জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের ও ভারতের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানির পণ্য পরিবহনে ব্যবহার হওয়া সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতাধীন চাতলাপুর স্থলবন্দর-শমশেরনগর-মৌলভীবাজার সড়কটি বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গর্ত হয়ে যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ।

কমলগঞ্জ উপজেলার কর্মজীবী গৃহিণী মনোয়ারা বেগম, স্কুলশিক্ষক মানিক চন্দ্র পাল ও সিএনজি-অটোরিকশা চালক রতন দেব সড়কটির দুরবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গত চাইর (চার) বছর ধরিয়া রাস্তাটির বেহাল দশা। বাধ্য হইয়া যাওয়া লাগে মৌলভীবাজার। একবার আসা-যাওয়া করলেই অসুস্থ হইয়া পড়তে হয়। দুই বছর ধরিয়াও রাস্তার কাজ শেষ হইল না। আর কত কষ্ট করতে হইবে জানি না।’ শমশেরনগর-মৌলভীবাজার সড়কে ৩৪ কিলোমিটারের মধ্যে ২০ কিলোমিটার সড়কে গত দুই বছর ধরে প্রায় ৫০ শতাংশ পাথরের কাজ শেষ হয়েছে। তবে এখনো স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলের দুর্ভোগ ঘুচেনি। ২০১৯ সনের নভেম্বর থেকে সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হয়ে গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, শমশেরনগর-মৌলভীবাজার-চাতলাপুর সড়কের ৩৪ কিলোমিটারের মধ্যে ২০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হয় ২০১৯ সনে। প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ হওয়ার পর থেকেই ভাঙাচুরা সড়ক ফেলে রাখা হয়। এর ফলে বৃষ্টি ও যানবাহনের চাপে সড়কের বালু, পাথর সরে সড়কে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। এরও আগে দুই বছর ধরে ২০ কিলোমিটার সড়কে ইট-সুরকি দিয়ে গর্ত ভরাট করার চেষ্টা চলে। এখনো সড়কে গাড়ি চালাতে চালকদের সতর্ক ও সন্ত্রস্ত থাকতে হয়। যাত্রীরাও যানবাহনের ঝাঁকুনিতে অতিষ্ট। শমশেরনগরের কলেজছাত্র আশফাকুর রহমান, শিক্ষক জমশেদ আলী, ব্যবসায়ী নিবাস পাল, আলমগীর হোসেন বলেন, এতো দিনেও রাস্তার সংস্কার কাজ হয়নি। অথচ অসুস্থ কিংবা গর্ভবতী রোগীদের নিয়ে এই রাস্তায় যাতায়াত করা সম্ভব হয় না। অনেকে বাধ্য হয়েই শ্রীমঙ্গল শহর ঘুরে এখনো মৌলভীবাজারে আসা-যাওয়া করেন।

সওজ সূত্রে জানা যায়, সড়কের সংস্কার কাজের দায়িত্ব পায় এম আর ট্রেডিং। ৪২ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজ শুরু হলেও পরে বন্ধ হয়ে যায়। ৩৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার এই সড়কের ২০ কিলোমিটার এলাকার বিভিন্ন অংশে পাথরের কাজ প্রায় ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে সড়কে যেসব বাজার রয়েছে ও যেসব স্থান বন্যায় তলিয়ে যায় সেসব স্থানেও কাজ হচ্ছে না। সেসব স্থানে আরসিসি ঢালাই ও উঁচু করে পুনর্নির্মাণ কাজ হবে। এ ব্যাপারে এম আর ট্রেডিংয়ের ঠিকাদার মুহিবুর রহমান কোকিল জানান, কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ায় পুনরায় সময় চেয়ে আবেদন করা হয়। ২০ কিলোমিটার সড়কের কাজও চলছে। অনেকটা এগিয়ে গেছে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার আলম বলেন, বৃষ্টির জন্য কাজ সম্পন্ন হয়নি। সড়কের ২০ কিলোমিটার কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে এবং এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ শতাংশ পাথরের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন হবে।