দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে মঙ্গলবার রাতে নগরীতে এক জন নিহত হলেও চসিক নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণায় তার কোনো প্রভাব পড়েনি। নির্বাচনি সহিংসতার ঐ ঘটনায় ভোটারদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তবে সব আশঙ্কা উপেক্ষা করে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা গতকাল বুধবার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি নিরাপদেই সম্পন্ন করেছেন। অসংখ্য নেতাকর্মীর পদচারণায় নগরীর প্রতিটি অলিগলি ও রাজপথ সরগরম হয়ে উঠেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে লাখ লাখ পোস্টার, ব্যানারে ছেয়ে গেছে নগরী। তবে দুই প্রধান প্রার্থী মো. রেজাউল করিম চৌধুরী ও ডা. শাহাদাত হোসেনের পোস্টারই চোখে পড়ছে বেশি। পাশাপাশি সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানারও আছে। নগরীর সৌন্দর্য রক্ষায় ২১ নম্বর জামালখান ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী শৈবাল দাশ সুমন পোস্টারবিহীন নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। পোস্টার ব্যানারের পাশাপাশি মাইকিং, গণসংযোগ, মিছিল এবং নির্বাচনি কার্যালয়ে আড্ডাবাজিও জমে উঠেছে। অনেক প্রার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিজ্ঞাপন, লাইভ, ছবি পোস্ট করে অনলাইন প্রচারণা করছেন—যা তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করছে।
গতকাল বুধবার নগরীর মোগলটুলি কমার্স কলেজ রোড, বহদ্দারহাট, বলিরহাট, ঘাসিয়া পাড়া, খাজা রোড, আমিন শিল্পাঞ্চল ও নাসিরাবাদ সাংগঠনিক ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণসংযোগ ও প্রচারণা করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। এছাড়া তিনি চট্টগ্রামস্থ রাউজানবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন। গণসংযোগকালে রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীতে বসবাসকারী আমরা সবাই একটি পরিবার। সিটি করপোরেশন এই পরিবারের সেবামূলক কাজ করে। আমি চট্টগ্রামের সন্তান হিসেবে সুখে-দুঃখে সবার সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং থাকব। মেয়র নির্বাচিত হলে আমি চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়নে নিজেকে উজাড় করে দিতে চাই।
বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ও নগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন গতকাল বুধবার নগরীর ৩৬ নম্বর গোসাইলডাঙ্গা ও ৩৮ নম্বর দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ডে নির্বাচনি গণসংযোগ করেন। এ সময় তিনি বলেন, আমি মেয়র নির্বাচিত হলে চট্টগ্রাম বন্দরে স্থানীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করবো।
এদিকে, নগরীতে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে এক জনের মৃত্যুর পর নির্বাচনি সহিংসতা আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন নগরবাসী। গত মঙ্গলবার নগরীর ২৮ নম্বর পাঠানটুলি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আজগর আলী বাবুল নামে এক ব্যক্তি মারা যান। ঐ ঘটনায় মূল সন্দেহভাজন বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী আজগর আলী বাবুলকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সহিংসতা মোকাবিলায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
