এই ঘটনা পুরো পুলিশ বাহিনীর গায়ে মাখানোর দরকার কী

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২১, ২২:৪৭

নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণ শেষে ‘হত্যা’ ও ‘মৃত’ কিশোরীর ফিরে আসার ঘটনায় তিন আসামির জবানবন্দি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, যেখানে কিশোরী হত্যার ঘটনাই ঘটেনি, সেখানে আসামিরা জবানবন্দিতে বলেছে তাকে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দিয়েছে। এ ধরনের জবানবন্দি কি আসামিরা ‘শখের বশে’ দিয়েছে। এ ধরনের জবানবন্দি দেওয়ার ক্ষেত্রে আসামিদের কী স্বার্থ থাকতে পারে। ফাঁসি হবে জেনেও আসামিরা কি স্বেচ্ছায় এ ধরনের জবানবন্দি দিয়েছেন, এটা কি বিশ্বাসযোগ্য। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার এই মন্তব্য করেন।

নারায়ণগঞ্জে এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় রিমান্ড শেষে তিন আসামি খলিল, রকিব ও আব্দুল্লাহ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে বলেন, তারা ধর্ষণ শেষে ঐ কিশোরীকে হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দিয়েছেন। কিন্তু ঘটনার ৫১ দিন পর ঐ ‘মৃত’ কিশোরী ফিরে আসায় দেশ জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে পাঁচ আইনজীবী হাইকোর্টে রিভিশন মামলা দায়ের করেন। ঐ মামলায় হাইকোর্ট ঘটনার আদ্যোপান্ত উদ্ঘাটনে বিচারিক অনুসন্ধানের আদেশ দেয়।         নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা ফেরদৌস অনুসন্ধান শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে দোষী সাব্যস্ত করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শামীম আল মামুন তিন আসামিকে নির্যাতন করে ঐ ধরনের জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেন।

অনুসন্ধান কমিটির এই রিপোর্টের ওপর শুনানিতে এসআই শামীমের আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী বলেন, বিচারিক অনুসন্ধান রিপোর্টে পুলিশ বাহিনীর ওপর একটা দোষ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমি মনে করি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অতিরঞ্জিত কিছু করেননি। তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক। এ পর্যায়ে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, নারায়ণগঞ্জের এই ঘটনাকে পুরো পুলিশ বাহিনীর গায়ে মাখানোর কী দরকার আছে! একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবেই তাদের দেখা উচিত। যদি কোনো অনিয়ম সেখানে হয়ে থাকে তাহলে তা থেকে কীভাবে উত্তরণ করা যায়, সেটা পুলিশ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভেবে দেখা উচিত।

আদালত বলেন, ২২ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে ভিকটিম আদালতে কি বলেছে? দুটো জবানবন্দির মধ্যে কোনটাকে আমরা সঠিক মনে করব? ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সরোয়ার হোসেন বাপ্পী বলেন, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার সময় আসামিরা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নির্যাতনের কথা বলেনি। আদালত বলেন, আপনাদের দুই জনের শুনানি যদি গ্রহণ করি তাহলে আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি সত্য বলে ধরে নিতে হয়।

এ পর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিনের উদ্দেশ্যে আদালত বলেন, ভারতে কোনো আসামিকে রিমান্ডে নেওয়া হলে সেখানে আইনজীবী রাখার সুযোগ আছে। এজন্য সিআরপিসি আইন সংশোধনও করেছে। আমরা তো কোর্ট থেকে আইন সংশোধনের কথা বললে নানা প্রতিক্রিয়া হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আপনারা পর্যবেক্ষণ দিতে পারেন। আদালত বলেন, হাইকোর্টের কাজ কী তাহলে রুল মঞ্জুর বা খারিজ করা, জামিন দেওয়া। এরপরই হাইকোর্ট বুধবার পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করে দেন। ঐ দিন অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য শুনবে আদালত।