চট্টগ্রামে গত মঙ্গলবার নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত আজগর আলী বাবুল হত্যার ঘটনায় পাঠানটুলী ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. আবদুল কাদের ওরফে মাছ কাদেরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে নগরীর পাঠানটুলী এলাকায় আজিম ম্যানশন নামে একটি বাসায় অভিযান পরিচালনা করে কাদেরসহ ২৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। আজগর হত্যার ঘটনায় গতকাল বুধবার নিহতের ছেলে সেজান মাহমুদ বাদী হয়ে বিদ্রোহী কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আবদুল কাদেরকে প্রধান আসামি এবং আরো ১৩-১৪ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাত ৩০-৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
জানা গেছে, ১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে হত্যা, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও অস্ত্র আইনেসহ নানা অভিযোগে নগরীর বিভিন্ন থানায় মোট ২৯টি মামলা হয় কাদের ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ২০০০ সালে একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে টানা ৯ বছর কারাগারে ছিলেন তিনি। আরেকটি খুনের মামলা বর্তমানে বিচারাধীন। বাকি ২৭টি মামলার মধ্যে ২৩টিতে বেকসুর খালাস পেয়েছেন তিনি। এছাড়া বর্তমান সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় তার চারটি খুনের মামলা প্রত্যাহার করা হয়। চাঞ্চল্যকর মামলার বাইরেও কাদেরের বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজি, জমি ও ফ্ল্যাট দখল, টেন্ডারবাজি, মাদক কারবার এবং একাধিক কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণসহ বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের চসিক নির্বাচনে ভয়ভীতি দেখিয়ে পাঠানটুলী ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে বিজয়ী হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
জানা যায়, ১৯৯৭ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সিটি কলেজের ছাত্র শফিউদ্দিন আজাদকে গুলি করে হত্যার মামলায় প্রধান আসামি ছিলেন আবদুল কাদের। উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশে মামলাটির কার্যক্রম ২০০০ সাল থেকে বন্ধ আছে। শফিউদ্দিন আজাদ হত্যা ছাড়াও কাদেরের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরীর পলিটেকনিক কলেজের ছাত্র কাদের, মোগলটুলী এলাকার আজাদ, আলী, সিরাজ, পাহাড়তলী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাসিম, পশ্চিম মাদারবাড়ীতে জোড়া খুনসহ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৯ কর্মীকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন আইনের একটি মামলায় ১২ বছরের সাজা হয় কাদেরের। তবে ঐ মামলায় উচ্চ আদালতে আপিল করে বর্তমানে জামিনে আছেন তিনি। মামলাটি এখনো উচ্চ আদালতে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
অতীত অপকর্মের কারণে এবারের চসিক নির্বাচনে আবদুল কাদেরকে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। তার পরিবর্তে দলীয় মনোনয়ন পান শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল আহসান চৌধুরী নওফেলের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত নজরুল ইসলাম বাহাদুর। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন আবদুল কাদের।
