ইতালি প্রবাসী স্বামী রোকন মোল্লা করোনায় গৃহবন্দি। তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারছেন না স্ত্রী। মাদারীপুর সদর থানার দুধখালী গ্রামে বাবার বাড়িতে থাকেন স্ত্রী স্বর্ণালী আক্তার। পাশের বল্লাইচর গ্রামে তার শ্বশুরবাড়ি। এরই মধ্যে জেলার থানতলী গ্রামের সজীবের সঙ্গে স্বর্ণালীর মোবাইল ফোনে পরিচয় ও সম্পর্ক হয়। সজীব দেখা করার জন্য স্বর্ণালীকে ফরিদপুরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন রাজস্থান রয়েল হোটেলে আসতে বলে। সেই অনুযায়ী ২৩ অক্টোবর বিকালে স্বর্ণালী ঐ হোটেলে যান। সেখানে ২০৭ নম্বর কক্ষে সজীবের সঙ্গে ওঠেন। পরদিন ঐ কক্ষের বিছানা থেকে স্বর্ণালীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা শাহাদত হোসেন বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় সজীবকে প্রধান আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এখন মেয়ের খুনিকে গ্রেফতারের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এই হতভাগ্য বাবা। দুই মাসের বেশি সময় তদন্ত করেও ফরিদপুর পুলিশ আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মোরশেদ আলম বলেন, লাশ উদ্ধারের সময় স্বর্ণালীর পরনে কোনো অলংকার ছিল না। মোবাইল ফোনটিও পাওয়া যায়নি। পুলিশের ধারণা, স্বর্ণালীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তার স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়েছে ঘাতক। ওসি জানান, লাশের সুরতহাল রিপোর্ট অনুযায়ী আমরা ধারণা করছি, মেয়েটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পুলিশের কাছে আসেনি। সন্দেহভাজন আসামি সজীবকে আটকের চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তবে এরই মধ্যে মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফরিদপুর সিআইডির পরিদর্শক ইমরান আলম বলেন, নিহতের খোয়া যাওয়া মোবাইল ফোনের সিডিআর (কল ডিটেইলস রেকর্ড) চাওয়া হয়েছে। কল যাচাই-বাছাই করে সজীব সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যাবে। ঐ হোটেলে তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে উঠেছিলেন। নিহতের সঙ্গে আসামির পূর্ব পরিচয় ছিল। কিন্তু কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে—সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।
নিহতের বাবা শাহাদাত হোসেন অভিযোগ করেন, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন টার্গেট করেই সজীব তার মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
