ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য আসছে আরো ১০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২১, ২১:৫০

প্রান্তিক পর্যায়ের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ৪ শতাংশ সুদে ১০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ আসছে বলে জানিয়েছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আসাদুল ইসলাম। তিনি জানান, প্রণোদনা প্যাকেজটি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য বৃহস্পতিবারই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। অর্থমন্ত্রী এরই মধ্যে এটি অনুমোদন দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার করোনাকালে পল্লি কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ভূমিকা শীর্ষক ওয়েবিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিনিয়র সচিব এ কথা বলেন। ওয়েবিনারের প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, এমপি। পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ।

মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, ২০ হাজার কোটি টাকার যে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছিল সেটার বিতরণ ভালো ছিল না। অনেক চাপ প্রয়োগ করেছি, ব্যাংকগুলোর মধ্যে একটা অনীহাও ছিল। তবে তারা যে সমস্যা দেখতে পেয়েছে সেটি হলো তাদের কাছে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তথ্য ছিল না। এসএমই সেক্টরের গ্রাহকদের সঙ্গে তাদের পরিচিতিটা কম। এখন বাংলাদেশ ব্যাংক ১০ হাজার কোটি টাকা ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি দেবে, সেখানে সরকার সুদ ভর্তুকি দেবে। গ্রাহক পর্যায়ে সুদহার হবে ৪ শতাংশ। অর্থ বিতরণ বিষয়ে তিনি বলেন, প্রস্তাবে আমরা এমএফআইগুলোকে বলেছি তারা সরাসরি টাকা পাবে। এখানে আমরা যতটুকু পারি ঋণ বিতরণের ধাপ কমিয়ে আনছি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ না করলে করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশ সফল হতে পারত না। পিকেএসএফ দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য কাজ করে চলেছে এবং দারিদ্র্য বিমোচন হচ্ছে। আগে দারিদ্র্যের হার ৪১ শতাংশ ছিল, এখন সেটা ২০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। অতি দারিদ্র্যও প্রায় ১০ শতাংশের কাছাকাছি নেমে এসেছে। পিকেএসএফের চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, সরকার পিকেএসএফের মাধ্যমে বিতরণের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এর মধ্যে দেওয়া ২৫০ কোটি টাকা আমরা বিতরণ করেছি। আরো ২৫০ কোটি টাকা আমরা পাচ্ছি দু-এক দিনের মধ্যে, সেটাও বিতরণ করা হবে। যারা মাঠে কাজ করেন তারা ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কার। তাই তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভ্যাকসিন পাওয়ার যোগ্য বলে মনে করেন তিনি। মাঠ পর্যায়ে পিকেএসএফের ৬২ জন কর্মী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি। পিকেএসএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের বিশদ উপস্থাপনা প্রদান করেন। তিনি জানান, করোনাকালে মাঠ পর্যায়ে ১ কোটি ১০ লাখ গ্রাহকের ঋণের কিস্তি আদায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়। সহযোগী সংস্থাসমূহও নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় ৩০ কোটি টাকার বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ৪ কোটি টাকা অনুদানও প্রদান করেছে পিকেএসএফ।