চট্টগ্রাম শহরের কেন্দ স্থলে অবস্থিত ১৪ নম্বর লালখান বাজার ওয়ার্ড। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী ও সন্ত্রাসের জনপথ হিসেবে লালখানবাজার এলাকা নিয়ে বসবাসকারীরা সব সময় আতঙ্কে থাকে। সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর মধ্যে ইতিপূর্বে সশস্ত্র সংঘর্ষে বহু লোকের প্রাণহানি ঘটেছে। রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের তত্ত্বাবধানে এই এলাকায় সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মালিকানাধীন পাহাড়ে অবৈধ বসতি নির্মাণ করে একাধিক বস্তি নির্মাণ করা হয়েছে। প্রভাবশালীরা হতদরিদ্র ছিন্নমূল মানুষকে ব্যবহার করে আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন।
প্রায় দেড় লাখ জনগোষ্ঠীর বসবাসরত লালখান বাজার ওয়ার্ডে মোট ভোটার প্রায় ৫০ হাজার। বর্তমানে প্রার্থীরা নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখনো পর্যন্ত কোনো সহিংস ঘটনা ঘটেনি। তবে দলীয় সন্ত্রাসীদের আনাগোনায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে। একাধিক এলাকাবাসী জানান, লালখান বাজার এলাকার প্রদান সমস্যা সন্ত্রাস ও মাদক। এসব কারণে এলাকার নিরীহ সাধারণ মানুষ সব সময় আতঙ্কে থাকেন। প্রতিদিনই ঘটে চলেছে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এই ওয়ার্ডে এবার সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে তিন জন প্রার্থী হয়েছেন। তার মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আবুল হাসনাত বেলাল (ঘুড়ি), বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল হালিম শাহ আলম (রেডিও) ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত বিদ্রোহী প্রার্থী আবুল ফজল কবির আহমেদ (লাটিম)। এছাড়া সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছে তিন জন।
পশ্চিম মাদারবাড়ি ২৯ নম্বর ওয়ার্ড :অসংখ্য সমস্যায় জর্জরিত নগরীর পশ্চিম মাদারবাড়ি ওয়ার্ডের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির অভাবে ভুগছেন। আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রার্থীরা যদিও তাদের প্রচারণায় এসব সমস্যার সমাধানের জোর আশ্বাস দিচ্ছেন, কিন্তু ভোটাররা তাদের কাছ থেকে নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি চাইছেন। এলাকার অধিবাসী ভোটার রেহানউদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, এই ওয়ার্ডে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সুপেয় পনির অভাব। নগরীর প্রাচীনতম এবং ঘনবসতিপূর্ণ এই ওয়ার্ডের মানুষ সুপেয় পানি সমস্যার জন্য কর্তৃপক্ষের দুয়ারে দুয়ারে ধরনা দিতে দিতে আজ ক্লান্ত। প্রতিবারই প্রার্থীরা পানি সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। কিন্তু তার সুরাহা হয় না। তিনি বলেন, এখানে চট্টগ্রাম ওয়াসা সুপেয় পানি বলে যে পানির সরবরাহ দিচ্ছে তা দুর্গন্ধযুক্ত কমলালেবুর রসের মতো। আসলে এগুলো ডিপ টিউবওয়েলের পানি। কলেজিয়েট স্কুলের ডিপ টিউবওয়েল থেকে এসব পানি সরবরাহ করছে। অথচ মাসে মাসে চট্টগ্রাম ওয়াসা ঠিকই পানির বিল আদায় করে নিয়ে যাচ্ছে।
এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আফজাল জানান, এই ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট ধূলিধূসরিত, অনুন্নত। তার ওপর মাদক বেচাকেনা ও মাদক গ্রহণের আস্তানা নিয়ে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। তিনি জানান, এই ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা একটি বড় সমস্যা। আর সিসি ক্যামেরা না থাকায় অপরাধীরা অবাধে বিচরণ করে।
এবারের নির্বাচনে এই ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চার জন। এরা হচ্ছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত সাবেক কাউন্সিলর, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি গোলাম মোহাম্মদ জোবায়ের (প্রতীক রেডিও)। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, সদরঘাট থানা বিএনপির সভাপতি হাজি মো. সালাহউদ্দিন (প্রতীক মিষ্টি কুমড়া)। এছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামিয়া কলেজের সাবেক জিএস ও থানা আওয়ামী লীগের সদস্য মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন (প্রতীক ঘুড়ি) এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুর রশিদ (প্রতীক ঝুড়ি)। এই ওয়ার্ড ভোটারের সংখ্যা ৩১ হাজারের বেশি।
