সবুজ হাসান, শিক্ষক
এসএ শাখাকে তাই ‘এস.এ. শাখা’ লেখা চলবে না (‘এস,এ শাখা’ কিংবা ‘এস এ শাখা’ তো নয়ই)। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সংক্ষেপিত রূপ হবে বাফুফে; বা, ফু. ফে, কিংবা বা ফু ফে নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হবে ঢাবি। একইভাবে বি.এ. বা বি.বি.এ. না। লিখে লিখতে হবে বিএ কিংবা বিবিএ।
তবে ঐতিহ্যগতভাবে একবিন্দু (ফুলস্টপ) ব্যবহারের চল থাকলে সে-সব ক্ষেত্রে তা যথারীতি অব্যাহত রাখা যেতে পারে।
শব্দের সংক্ষেপণ চিহ্ন হিসেবে অনুস্বার ( ং ) কিংবা বিসর্গ ( ঃ ) ব্যবহার করা ঠিক নয়।
নম্বরের পরিবর্তে ‘নং’ আর তারিখের পরিবর্তে ‘তাং’এ দুটি কুিসত সংক্ষেপণ অফিস-আদালতে অপ্রতিরোধ্য ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।
এরকম ভুল, অসংগত ও অপ্রয়োজনীয় সংক্ষেপণের দৃষ্টান্ত আরও রয়েছে ‘ইং’ (খ্রিস্টাব্দ অর্থে), ‘বাং’ (বঙ্গাব্দ অর্থে), ‘পিং’ (পিতা), ‘সাং’ (সাকিন)। বিসর্গ ব্যবহার করে সংক্ষেপণের দৃষ্টান্ত ও একেবারে কম নয়।
যেমন : খ্রিস্টাব্দের বদলে ‘খ্রিঃ’
ডক্টরের বদলে ‘ডঃ’
মোহাম্মদের পরিবর্তে ‘মোঃ’।
বিসর্গের পরিবর্তে সংক্ষেপণ চিহ্ন হিসেবে একবিন্দু/ডট ( . ) ব্যবহার করতে হবে।
যে-সব শব্দের ক্ষেত্রে অযথা সংক্ষেপণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে সেগুলো হলো নম্বর, তারিখ, পিতা, সাকিন, বঙ্গাব্দ, খ্রিস্টাব্দ, হাওলাদার।
এবার এক নজরে দেখে নেওয়া যাক :
৪. সাধু নয়, চলিত রীতি
বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া অফিসের চিঠিপত্র সাধারণত চলিত রীতিতেই লিখতে হবে এবং লেখার সময় সাধু ও চলিত ভাষারীতির মিশ্রণ ঘটানো যাবে না। কিছু কিছু শব্দ রয়েছে যেগুলো দেখতে বা শুনতে চলিতের মতো হলেও প্রকৃতপক্ষে সেগুলো সাধুরীতির শব্দ। এরকম বিভ্রান্তিকর কিছু শব্দ দেখে নেওয়া যাক এক নজরে :
৫. কথ্য রূপ, লেখ্য রূপ
শব্দের কথ্য রূপকে কখনো নোট, চিঠিপত্র বা প্রতিবেদন লেখার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে না। কথ্য রূপ ব্যবহার করা যাবে কথোপকথনে, সংলাপে কিংবা প্রবাদবাক্যে। সচরাচর ভুলভাবে ব্যবহূত কয়েকটি শব্দের কথ্য ও লেখ্য রূপ দেখা যাক : (ছবিতে)
এখানে অল্প কয়েকটা বলা হয়েছে। বাস্তবে এই সমস্যা অধুনা লেখকদের মধ্যে প্রকট। হইছে (হয়েছে), খাইছি (খেয়েছি), করতাছো (করছ), বলতেছি (বলছি)-সহ আরো অদ্ভুত সব কথ্য ভাষার প্রয়োগ দেখা যায়।
মনে রাখবেন উদ্ধৃতি চিহ্নের ভেতরে চরিত্রানুয়ায়ী যে ভাষায় প্রয়োজন লিখুন। এর বাইরে এর প্রয়োগ প্রমিত নিয়মানুসারে লিখুন।
