ভারতের গুজরাট রাজ্য। সেই রাজ্যে ছিল এক কাঠখোট্টা জমিদার। তিরিক্ষি মেজাজের জন্য গাঁয়ের লোকজন তাকে এড়িয়ে চলত। তার হুকুম পালনে পরিবারের লোকজন ও চাকরবাকর সবসময় থাকত তটস্থ।
একদিন জমিদার ব্যবসার কাজে শহরে যায়। শহরেই কাটে তার দিন। অনেক দিন পর জমিদার-বাড়ির নানা খবর নিয়ে এক চাকর গিয়ে হাজির হয় জমিদারের কাছে।
জমিদার চাকরকে শুধোয়, ‘বাড়ির সবাই ভালো আছে তো?’
চাকর বলে, ‘মালিক, সব ঠিক আছে। কেবল কালো কুকুরটা মারা গেছে।’
জমিদারের জিজ্ঞাসা, ‘ব্যাপার না। তবে প্রাণীটা কিভাবে মারা গেল? বাড়ি থেকে আসার আগে তো ভালোই ছিল।’
চাকরের উত্তর, ‘বদহজমেই কুকুরটা মারা গেছে। ভরপেট ঘোড়ার মাংস খাওয়ায় প্রাণীটাকে আর বাঁচানো যায়নি।’
অবিশ্বাসের গলায় জমিদার বলে, ‘ঘোড়ার মাংস? হতচ্ছাড়া কুকুরটা ঘোড়ার মাংস কোথায় পেল?’
চাকর বলে, ‘মালিক, কোথায় আবার! বাড়ির আস্তাবলে।’
জমিদারের কণ্ঠে উত্কণ্ঠা, ‘প্রিয় ঘোড়াটাও মারা গেছে?’
চাকরের উত্তর, ‘ঘোড়াটাকে দানাপানি দেয়ার মতো কোনো সহিসই ছিল না।’
বিস্ময়ভরা কণ্ঠে জমিদার বলে, ‘সহিসটার আবার কী হলো?’
চাকরের সোজা উত্তর, ‘জমিদার মশায়, খাবারের অভাবে গাঁয়ের অনেক লোক মারা গেছে। সহিসই বা কিভাবে বাঁচে?’
শোকাহত জমিদার বলে, ‘কী যা তা বলছ? দেওয়ান আর জমিদার-গিন্নি ভালো আছে তো?’
চাকর নিচু গলায় বলে, ‘দেওয়ান ও জমিদার গিন্নিকে খাবার তৈরি করে দেয়ার বাবুর্চি কোথায়?’
জমিদারের উত্কণ্ঠা, ‘বাবুর্চি বেটার আবার কী হলো?’
শেষমেষ চাকর বলে, ‘জমিদার মশায়, বাবুর্চিকে কিভাবে বাঁচাব। রান্নাঘরের আগুন বাড়িময় ছড়িয়ে পড়ে। পুরো বাড়িটাই পুড়ে ছাই। কেউ আর বেঁচে নেই।’
রূপান্তর :কুতুব আজাদ
