আবার মাঠে ফেরার স্বপ্নে আল আমিন

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২১, ২১:২৭

স্পোর্টস রিপোর্টার

সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের মিডফিল্ডার আল আমিনের ডান পায়ের হাঁটুর নিচে দুটি হাড় ভেঙে গিয়েছে। চার দিন হাসপাতালে ছিলেন। চিকিত্সার ভার নিয়েছে ক্লাব। অস্ত্রোপচার হয়ে গিয়েছে। তাকে ক্লাবেও পাঠিয়ে দিয়েছেন ভারতীয় ডাক্তার অমিত কাপুর। ভর দিয়ে চলতে হচ্ছে। অস্ত্রোপচার ভালো হলেও তার ফুটবল ক্যারিয়ার এখানো অনিশ্চিয়তায় ভরা। আল আমিন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ফোনে জানিয়েছেন, তাকে ডাক্তার বলেছেন আবার হাঁটতে পারবে। কিন্তু কবে ফুটবল মাঠে নামতে পারবেন আল আমিন নিশ্চিত না। আল আমিন বলেন, ‘ডাক্তার বলেছেন তিন মাসের মধ্যে স্বাভাবিক মানুষের মতো হাঁটাচলা করা যাবে। চার পাঁচ মাসের মধ্যে রানিং করা যাবে।’ কবে ফুটবল খেলতে পারবেন ২২ বছরের এই তরুণ, তা এখনো বলা যাচ্ছে না।

ফেডারেশন কাপ ফুটবলের সেমি ফাইনালে চট্টগ্রাম আবাহনীর আইভোরি কোস্টের চার্লস দিদিয়েরের আঘাতে আল আমিনের পা ভেঙেছে মাঠে। সেই আঘাতে আল আমিন পায়ে ব্যান্ডেজ নিয়ে এখন বিছানায় শুয়ে মোবাইল ফোন হাতে সময় কাটায়। ফেডারেশন কাপ যেন আল আমিনের কাছে এক অভিশাপ। বদলি খেলতে নেমে মারাত্মক আঘাত পেয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে ফুটবল ক্যারিয়ার। বাবা হজরত আলী, মা পেয়ারা বেগম। হাসপাতালে সন্তানকে দেখতে যেতে পারেননি। আল আমিনের বন্ধুর বাবার মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়েছেন। আল আমিন বললেন, ‘মা বাবা কান্নাকাটি করেছে।’   

২ ভাই এবং ২ বোন, চার জনের মধ্যে আল আমিন তৃতীয়। নারায়ণগঞ্জের গোগনগর ফকির বাড়ীতে আল আমিনদের বাসা। পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আল আমিন। বাবা হার্টের রোগী, কিছুই করতে পারেন না। মা গৃহিণী ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত। ভাই একজন।   

বিছানায় শুয়ে চোখের পানি মুছেন আল আমিন। ভাবছেন তার ফুটবল ক্যারিয়ারের কি হবে। ফুটবল খেলে বাবা মাকে সুখের মুখ দেখাতে চেয়েছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী। রাকঢাক না করে আল আমিন বললেন, ‘আমি ছাড়া আমার পরিবারে উপার্জনের কেউ নেই। খুবই টেনশন হচ্ছে।

জাতীয় দলের সম্ভাবনাময় এই ফুটবলার আল আমিনের সংগ্রামী জীবন। এক সময় ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, বাবাকে  সহযোগিতা করতেন আল আমিন। কিন্তু তার মন পড়ে থাকত খেলার মাঠে। ক্রিকেট খেলতেন। খেলার প্রচণ্ড নেশা থামিয়ে রাখতে পারেনি আল আমিনকে। বলছিলেন, ‘ফুটবল পারি না। খেলতাম ক্রিকেট। তাই আমাকে নেওয়া হতো না। মাঠের বাইরে বসে থাকতাম। বাধ্য হয়ে ফুটবল খেলতে শুরু করি।’  পা ভেঙে যাওয়ার সেই দুঃস্বপ্নের ঘোরাফেরা। আল আমিন বললেন, ‘আমি কল্পনাও করিনি পা ভেঙে যাবে। মুড়ির শব্দের মতো কটমট করে পায়ের হাড্ডি ভেঙে যাওয়ার আওয়াজ পেলাম। সারাক্ষণ কানে বাজে সেই শব্দ।’