আরফিন শরিয়ত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) ভেতরে, ছাদের ওপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় মদ, ফেনসিডিলের বোতল। কেন্দ্রের সুইমিং পুল এলাকায়ও দেখা যায় একই চিত্র। ক্যাম্পাসের ভেতরে মাদক গ্রহণ চললেও কোনো প্রতিকার নেই। এছাড়া বহিরাগত, ভবঘুরেদের আবাসস্থল হয়ে উঠেছে টিএসসি সংলগ্ন এলাকা। আর এসব ভবঘুরেই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। শিক্ষার্থীদের কাছে তারাই মাদক সরবরাহ করে থাকে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, তারা ক্যাম্পাসকে মাদকমুক্ত রাখতে চায়। প্রায়ই অভিযান চলে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী মাদক ব্যবসা ও মাদক গ্রহণে জড়িত থাকায় অভিযান কার্যকর হয় না। এরপরও প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, করোনার কারণে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় রাতের বেলায় টিএসসি এলাকায় অনেকেই গাঁজা সেবন করে। সন্ধ্যার পরপরই টিএসসির ভেতরে মাদকের আড্ডা জমে উঠে। ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় বহিরাগতরা টিএসসির ভেতরে প্রবেশ করতে না পারলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বহিরাগতরা প্রবেশ করে মাদক গ্রহণ করে। সর্বশেষ গত চার মাসে দুবার অভিযান চালিয়ে পাঁচ জনকে আটক করে প্রক্টরিয়াল টিম।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু স্থান মাদক সেবনের আখড়া। টিএসসি তার মধ্যে একটি। কিন্তু ক্যাম্পাসের ভেতরে হওয়ায় পুলিশ সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারে না। এ বিষয়ে টিএসসির পরিচালক আকবর আলী বলেন, ক্যাম্পাসের কিছু শিক্ষার্থী অনেক সময় এসবের সঙ্গে জড়িত থাকে। তখন চাইলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয় না।
টিএসসির ফুটপাত, রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ, রোকেয়া হল ঘেঁষা ফুটপাতে বসবাস করে মানসিক বিকারগ্রস্ত, উদ্বাস্তু ও ভবঘুরেরা। এতে নানাভাবে হয়রানি হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অভিযোগ করলেও কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ক্যাম্পাসে যে কোনো ধরনের মাদকদ্রব্য বহন এবং বিপণন নিষিদ্ধ। আমাদের প্রত্যাশা, ক্যাম্পাসে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় থাকবে। তাই আমরা চাই মাদকসেবী এবং মাদককারবারিরা যেন আমাদের ক্যাম্পাসকে তাদের কাজের স্থল হিসেবে ব্যবহার না করে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। ভবঘুরেদের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা বার বার ব্যবস্থা নিয়েছি। কিন্তু তাদের তাড়ানো খুবই মুশকিল। তাছাড়া, এসব ভবঘুরে শিশুকে আমাদের ছাত্ররা স্নেহ করে। যার কারণে তাদের তাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি।
