ভোজ্য তেলের বাজার এবার লাগামহীন

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২১, ২২:৫১

 

গত এক মাসের ব্যবধানে প্রতি লিটার সয়াবিন ও পাম অয়েলে ২০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। যা ভোগান্তিতে ফেলেছে ভোক্তাদের Åব্যবসায়ীরা বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার তুলনায় ভোজ্য তেলের সরবরাহ কম। এর প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে

মুন্না রায়হান

ভোজ্য তেলের দাম বাড়ছেই। আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার তুলনায় সয়াবিন ও পাম অয়েলের সরবরাহ কম এমন অজুহাতে রীতিমতো লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম। গত প্রায় দেড় মাস ধরে একই অবস্থা। সরকারের বিপণন সংস্থা টেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসেবে গত চার দিনের ব্যবধানে প্রতি লিটার সয়াবিন ও পাম অয়েলে বেড়েছে চার থেকে পাঁচ টাকা।

তবে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজার ও নিউমার্কেটসহ কয়েকটি খুচরাবাজারগুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, দাম বেড়েছে আরো বেশি। গত এক মাসের ব্যবধানে প্রতি লিটার সয়াবিন ও পাম অয়েলে ২০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, যা ভোগান্তিতে ফেলেছে ভোক্তাদের।

কেন বাড়ছে ভোজ্য তেলের দাম :দেশে প্রতি বছর ভোজ্য তেলের চাহিদা ২২ থেকে ২৩ লাখ টন। এই হিসেবে প্রতি মাসে চাহিদা ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ৯০ হাজার টন। কিন্তু রমজানে এই চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় আড়াই থেকে ৩ লাখ টন। কিন্তু এখন রমজানের সময় না কিংবা হঠাত্ করে ভোজ্য তেলের চাহিদাও বাড়েনি। তাহলে কেন বাড়ছে সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম? এই প্রশ্ন ভোক্তাদের।

ব্যবসায়ীরা বলেছেন, বাংলাদেশ আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল থেকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে সয়াবিন তেল আমদানি করে। কিন্তু আর্জেন্টিনায় দীর্ঘদিন ধরে ভোজ্য তেল মিলগুলোতে শ্রমিক ধর্মঘট চলছে। এছাড়া মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকেপামঅয়েল আমদানি করা হয়। এই দুটি দেশে ফেব্রুয়ারি-মার্চ থেকে পাম অয়েলের মৌসুম শুরু হবে। কিন্তু দেশ দুটি আশঙ্কা করছে এ বছর তাদের পাম অয়েলের উত্পাদন কম হবে।

ব্যবসায়ীরা এই দুটি কারণের সঙ্গে যুক্ত করেছেন গত বছর আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চীনের ভোজ্য তেল আমদানির বিষয়টি। কারণ, চীন ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে যে পরিমাণ ভোজ্য তেল আমদানি করেছে, করোনা সংকটের কারণে গত বছর তার প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ সয়াবিন ও পাম অয়েল আমদানি করেছে বলে জানান তারা। এসব কারণে, আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার তুলনায় ভোজ্য তেলের সরবরাহ কম। এর প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে।

বর্তমান বাজারদর :গতকাল বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১১৮ থেকে ১২০ টাকা ও কোম্পানিভেদে বোতলজাত সয়াবিন ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়া ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন কোম্পানিভেদে ৫৮০ থেকে ৬৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া প্রতি লিটার পামসুপার ১১০ থেকে ১১৫ টাকা, পাম অয়েল ১০০ থেকে ১০২ টাকায় বিক্রি হয়। যা তিন-চার দিনের ব্যবধানে ভোজ্য তেলভেদে লিটারে চার থেকে পাঁচ টাকা বেশি।

আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেলের দাম নিম্নমুখী :গত বছরের এপ্রিল-মে মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন ক্রড পাম অয়েল বিক্রি হয়েছে ৬৯০ ডলারে। যা চলতি বছর জানুয়ারিতে ১ হাজার ১৯০ ডলারে উঠেছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেলের দাম বাড়ার এই ট্রেন্ড এখন নিম্নমুখী। গত দুই দিনের ব্যবধানে প্রতি টন ক্রুড পাম অয়েলে ৪০ ডলার পর্যন্ত কমেছে। দাম কিছুটা কমেছে দেশের পাইকারী বাজারেও।

রাজধানীতে ভোজ্য তেলের সবচেয়ে বড় পাইকারীবাজার মৌলভীবাজারে প্রতি মণে ২০০ টাকা সয়াবিন ৪ হাজার ২০০ টাকা ও পাম অয়েল ৩ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে এর কোনো প্রভাব পড়েনি খুচরাবাজারে। উলটো লাগামহীনভাবে বাড়ছে ভোজ্য তেলের দাম।

কমছে চালের দাম :এদিকে চাল আমদানির খবরে বাজার কিছুটা নিম্নমুখী। গত সপ্তাহে মোটা ও মাঝারিমানের চালের দাম কেজিতে এক থেকে দুই টাকা কমেছে। এছাড়া আগের সপ্তাহে সরু চালের দাম কেজিতে দুই টাকা কমেছিল। সবমিলিয়ে গতকাল বাজারে প্রতি কেজি সরু চাল নাজিরশাইল/মিনিকেট মানভেদে ৫৬ থেকে ৬৪ টাকা, মাঝারিমানের চাল পাইজাম/লতা ৫০ থেকে ৫৬ টাকা ও মোটা চাল ইরি/স্বর্ণা ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা বিক্রি হচ্ছে।