ইত্তেফাক রিপোর্ট
বাংলাদেশে আরো ১০ বছর বিদ্যুত্ রপ্তানি করতে চায় প্রতিবেশি দেশ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য। দুই পক্ষের মধ্যে বিদ্যমান বিদ্যুত্ বাণিজ্য চুক্তির মেয়াদ শেষ পর্যায়ে আসার পর এ প্রস্তাব দিয়েছে ভারতের উত্তর-পূর্বের ভূ-বেষ্টিত রাজ্যটি। তবে আরো পাঁচ বছর মেয়াদে এ চুক্তি স্বাক্ষর হচ্ছে বলে বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুত্ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে।
এক দশক আগে দেশে বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে উত্পাদন কম হওয়ায় ভারত থেকে বিদ্যুত্ আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৩ সালের অক্টোবরে পশ্চিমবঙ্গ থেকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা গ্রিডলাইন হয়ে বাংলাদেশে প্রথম বিদ্যুত্ রপ্তানি করে ভারত। বর্তমানে বাংলাদেশ ভারত থেকে দৈনিক ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ আমদানি করছে। গত ছয় বছরে এ আমদানি বাবদ ১৬ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা খরচ করে বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এর মধ্যে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য ত্রিপুরা থেকে কুমিল্লা হয়ে ১৬০ মেগাওয়াট আমদানি করা হয়। ত্রিপুরা থেকে আনা প্রতি ইউনিট (কিলোওয়াট) বিদ্যুতের দাম পড়ে সাত টাকা ৭৮ পয়সা।
বিদ্যুত্ বিভাগ ও পিডিবি জানায়, বর্তমানে দেশে দৈনিক বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্ষমতা ২১ হাজার ২৩৯ মেগাওয়াট। কয়েকটি বড় বিদ্যুত্ প্রকল্প থেকে আগামী দুই বছরের মধ্যে আরো সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদিত হওয়ার কথা রয়েছে। অথচ দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের গড় চাহিদা দৈনিক সাড়ে ৯ হাজার মেগাওয়াটের বেশি নয়। অর্থাত্ বিদ্যুতের মোট উত্পাদন ক্ষমতার প্রায় ৬০ শতাংশই ব্যবহূত হচ্ছে না। প্রাক্কলন অনুযায়ী বিদ্যুতের চাহিদা না বাড়ায় এবং উত্পাদন ক্ষমতার সমান্তরালে সঞ্চালন ও বিতরণ সক্ষমতা বৃদ্ধি না পাওয়ায় উত্পাদন ক্ষমতার অনেকটাই ব্যবহার করা যাচ্ছে না। আবর্তন পদ্ধতিতে একই সময়ে অর্ধেক সংখ্যক বিদ্যুেকন্দ্র খোলা রেখে ও অর্ধেক সংখ্যক বন্ধ রেখে বিদ্যুত্ উত্পাদন করা হচ্ছে।
এমন প্রেক্ষাপটে গত ডিসেম্বরে বিদ্যমান চুক্তির সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন জানিয়ে চিঠি পাঠায় ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুত্ করপোরেশন। এ প্রসঙ্গে পিডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশে এখন নতুন করে বিদ্যুত্ আমদানির প্রয়োজন নেই। তবে জ্বালানি মিশ্রণে ভারসাম্য এবং বিদ্যুতের মহাপরিকল্পনা অনুসরণের অংশ হিসেবে আমদানি চুক্তি নবায়ন বা নতুন চুক্তি করে ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুত্ আমদানির ব্যাপারে সরকার ইতিবাচক।
বিদ্যুত্ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, নবায়ন হতে যাওয়া চুক্তিতে বিদ্যুতের আগের দাম কমাতে চায় সরকার। সেটি ইতিমধ্যে জানানো হয়েছে। নতুন করে বিদ্যুত্ আনলে তার ইউনিট প্রতি দাম কত হবে তা নির্ধারণের জন্য আলোচনা চলছে। এছাড়া সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে আলোচনাও করতে হবে। বিদ্যমান চুক্তির মেয়াদ আগামী মার্চে শেষ হবে। তার আগেই নতুন চুক্তি হতে পারে। তবে ত্রিপুরা ১০ বছর মেয়াদী চুক্তি সই করতে চাইলেও বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ৫ বছর মেয়াদের চুক্তির পক্ষে মত দিয়েছে। তিনি আরো জানান, চুক্তি নবায়ন বিষয়ে চলমান আলোচনা অনুযায়ী-বাংলাদেশ যতটুকু বিদ্যুত্ আনবে ততটুকুরই দাম পরিশোধ করবে। প্রতি মাসে বিদ্যুত্ আমদানির ন্যূনতম পরিমাণ নির্ধারিত থাকবে না। তবে পূর্ব নির্ধারিত সঞ্চালন মাশুল পরিশোধ করতে হবে।
