শাহীন হাফিজ, বরিশাল অফিস
বরিশালের ইটভাটাগুলোতে অবাধে জ্বালানি কাঠ পোড়ানোর কারণে এলাকায় জ্বালানি কাঠের সংকট দেখা দিয়েছে। সংকটের কারণে গত তিন মাসে দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। জ্বালানি কাঠের দাম বৃদ্ধির ফলে অধিক লাভের আশায় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনি উজাড় করে ফেলছে। নদী ভাঙনে বনাঞ্চল উজাড় হওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি কাঠের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় ক্রমশই সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। এদিকে বছরের শুরু থেকেই এলপি গ্যাসের দাম সিলিন্ডার প্রতি বেড়েছে প্রায় দেড়শ টাকা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগর সংলগ্ন চর হোগলা, শায়েস্তাবাদ, দুর্গাপুর, চরবাড়িয়া, হিজলা উপজেলার খালিসপুর, মেমানিয়া, হিজলা গৌরবদী, বাবুগঞ্জের রহমতপুর, চাঁদপাশা, কেদারপুর, বাকেরগঞ্জ, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ইটভাটাগুলোতে প্রকাশ্যে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মতে, বরিশালের প্রায় ৭০ ভাগ পরিবারই বাসা-বাড়িতে জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করে। তবে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি কাঠের ব্যবহার হয়ে থাকে ইটভাটায়। যে পরিমাণে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে সে পরিমাণের কাঠ সরবরাহ না থাকায় দিন দিন জ্বালানি কাঠ সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্যাসের দাম বাড়লে তা পরবর্তীতে আর কমানো হয় না। নগরীর একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় প্রতিটা কোম্পানির এলপি গ্যাসের মূল্য নতুন বছরে সিলিন্ডার প্রতি দাম বেড়েছে প্রায় দেড়শ টাকা। হঠাত্ করে গ্যাসের দাম বাড়ার কারণে অনেকেই নতুন করে জ্বালানি কাঠের দিকে ঝুঁকছে। ফলে জ্বালানি কাঠের দাম অসহনীয় হয়ে উঠছে।
এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, তারা মাঝেমধ্যে জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করছেন। তবে যেভাবে কাঠের দাম বাড়ছে তাতে বন রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনকে আরো সতর্ক হতে হবে। উপকূলের বন উজাড় হলে ঝড় জলোচ্ছ্বাসসহ বন্যায় প্রাণহানী ও ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যাবে।
