রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ যৌথভাবে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন মিয়ানমারে নিযুক্ত মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংহি লি। গতকাল রবিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ কথা বলেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আজ সোমবার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে যাবেন তিনি। এছাড়া তিনি নোয়াখালীর ভাসানচরেও যেতে পারেন। এই দ্বীপে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছে সরকার।
প্রসঙ্গত, রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখতে ছয় দিনের সফরে শনিবার বাংলাদেশে এসেছেন বিশেষ দূত ইয়াংহি লি। রোহিঙ্গা সংকট ও মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতি মূল্যায়নে মিয়ানমারের প্রতিবেশি থাইল্যান্ডের পর বাংলাদেশ সফর করছেন তিনি।
ইয়াংহি লি মিয়ানমারের মানবাধিকার বিষয়ক দূত হলেও মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ তাকে দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। আগামী মার্চে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ৪০তম সেশনে রোহিঙ্গা নির্যাতনসহ মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেবেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত নিধন অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর চালানো হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। আগে-পরে মিলিয়ে বাংলাদেশে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। এসব রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের একটি সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি। রোহিঙ্গারাও এখন মিয়ানমারে ফিরতে রাজি নয়। তারা বলছে, রাখাইনে ফিরে যেতে যথাযথ পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি।
