করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় একমাত্র ভরসার জায়গা এখন ভ্যাকসিন। সুখবর হচ্ছে—এরই মধ্যে তিনটি কোম্পানি ফাইজার-বায়োএনটেক, মডার্না, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনে সফলতা পেয়েছে। বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় জাতীয়ভাবে টিকাদানের খসড়া পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, যা মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। টিকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের খসড়া পরিকল্পনায় তিন পর্যায়ে মোট পাঁচ ধাপে ১৩ কোটি ৮২ লাখ ৪৭ হাজারের বেশি মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হবে। দেশের ৮০ শতাংশ জনগণকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে ১৯২ দিন সময় লাগতে পারে বলে পরিকল্পনায় বলা হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী ক্ষমতাধর দেশগুলোর দৌরাত্ম্যে করোনার টিকাপ্রাপ্তির বিষয়ে গরিব ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। টিকার কাড়াকাড়িতে মেতেছে উন্নত দেশগুলো। বাংলাদেশ টিকাপ্রাপ্তিতে একমাত্র ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গেই চুক্তিবদ্ধ। যদিও ভারত সঠিক সময়ে টিকাপ্রাপ্তির বিষয়ে আশ্বস্ত করছে, তবুও বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলাদেশকে বিকল্প টিকার ব্যাপারেও সন্ধান চালিয়ে যাওয়া উচিত। দেশের প্রায় প্রত্যেক নাগরিকের ভ্যাকসিনপ্রাপ্তির বিষয়ে সময় বিলম্ব যাতে না হয়, সেদিকে নজর রাখার কথাও বলছেন তারা।
মহামারির এই করুণ সময়ে টিকা নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি হবে দেশের জন্য আত্মঘাতী। কিন্তু কথায় বলে, ‘চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনি’। তাই অনিয়ম ও ব্যক্তি স্বার্থে এমন অনেক অপরাধী থাকবে যারা মহামারির এই করুণ সময়েও অর্থের লোভে দুর্নীতির আশ্রয় নিবে; যেমনটা আমরা দেখেছি দেশের হাসপাতাল ও ক্লিনিকের করোনার ভুয়া রিপোর্ট তৈরি, মহামারিকে কেন্দ্র করে সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ-সাহায্য দরিদ্রের মধ্যে সুষ্ঠু বণ্টনের নামে অনিয়মের ঘটনাগুলোতে। আমরা দেখেছি মহামারিকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলো টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট বিক্রয়ের রমরমা বাণিজ্য, গুজব ছড়িয়ে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, করোনার বিশেষ সুরক্ষিত পোশাক (পিপিই) এবং মাস্ক আমদানি এবং তৈরিতে ভেজালের মতো দুর্নীতি। অর্থাত্ মহামারি যেন কতিপয় স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর কাছে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মহোত্সবে পরিণত হয়েছে। অতএব আমাদের উচিত হবে পূর্বের অভিজ্ঞতাগুলো থেকে পাওয়া শিক্ষা কাজে লাগানো। দেশে অন্তত এই করোনাকালীন মানবিক বিপর্যয়ের মুহূর্তে টিকা নামক আশার প্রদীপ দুর্নীতি এবং অনিয়মের হাওয়ায় যেন নিভে না যায়, সরকারকে তা নিশ্চিত করতে হবে।
দেশের প্রতিটি মানুষ চায় টিকা নিয়ে যেন কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি, বাণিজ্যের নতুন পথ সৃষ্টি না হয়। টিকার সুফলতা পেতে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশও সমানতালে এগিয়ে যাক। দেশীয় ‘বঙ্গভ্যাক্স’ নামক টিকা বাংলাদেশকে যে সম্ভাবনা দেখাচ্ছে, সেটির সফলতার মুখে কোনো প্রতিবন্ধকতা যাতে তৈরি না হয়। টিকার সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত হোক, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সুশৃঙ্খলভাবে—এটিই প্রত্যাশা থাকবে।
লেখক :শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
