পিডিপি, ডেসকো, ডিপিডিসি ইত্যাদি বিদ্যুত্ বিতরণকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের কাছ থেকে বিদ্যুতের অগ্রীম মূল্য আদায়ের জন্য প্রিপেইড মিটার স্থাপন করছে এবং গ্রাহকদের এই মিটার ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। তারা এই মিটারের যে সব উপযোগিতা এবং উপকারিতা তুলে ধরছে তা সবই ঠিক। কিন্তু এগুলো একতরফা। দ্বিতীয় তরফ অর্থাত্ ঐসব প্রতিষ্ঠানের লাভের কথা বলা হচ্ছে না। দ্বিতীয় তরফের প্রথম লাভ বিদ্যুত্ ব্যবহারের আগেই তার মূল্য অগ্রীম আদায়। অন্য সুবিধাগুলো : ১. বিদ্যুত্ অপচয় রোধ করা, ২. বিদ্যুত্ চুরি বন্ধ, ৩. মিটার রিডারের প্রয়োজন না হওয়া, ৪. বিদ্যুত্ বিল তৈরি, প্রিন্টিং ও বিতরণে লোকবল, সময় ও অর্থ অপচয় না হওয়া, ৫. বিল আদায়কারী ব্যাংক/প্রতিষ্ঠানকে কমিশন না দেওয়া, ৬. ব্যাংকের আদায় বিবরণী থেকে আদায় করা বিলের বিবরণ লেজার/কম্পিউটারে পোস্টিং দেওয়ার প্রয়োজন না হওয়া, ৭. অনাদায়ী বিলের জন্য গ্রাহকদের নোটিশ ইস্যু এবং ৮. খেলাপি গ্রাহকদের সংযোগ সরজমিনে গিয়ে বিচ্ছিন্ন করার প্রয়োজন না হওয়া। তারপরেও প্রতিষ্ঠানগুলি গ্রাহকদের মিটার ভাড়া ও ডিমান্ড চার্জ বাবদ অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য করছে। মিটার ভাড়া ও ডিমান্ড চার্জ ছোট বড় সব গ্রাহকের জন্য পাইকারি হারে একই। ফলে ক্ষুদ্র ব্যবহারকারীর জন্য এটি একধরনের জুলুম। প্রিপেইড মিটারে টাকা ভরতেও গ্রাহকদের বিকাশ জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে কমিশন বা কালেকশন চার্জও দিতে হচ্ছে। এ অবস্থায়, স্বচ্ছতা এবং ন্যায়-নীতির স্বার্থে বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি মূল্য ছাড়া গ্রাহকের কাছ থেকে সবরকম ভাড়া এবং চার্জ আদায় করা বন্ধ করতে হবে। এমনকি সরকারের ভ্যাট/ট্যাক্সও গ্রাহক নয়—বিদ্যুত্ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বহন করবে।
ওয়াহিদুল ইসলাম আখন্দ
৫৭০/১-বি, সেনপাড়া-পর্বতা, ঢাকা ১২১৬
