বাল্যবিবাহ মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২১, ২১:৫৭

আমাদের সামাজিক ব্যাধিগুলোর মধ্যে বাল্যবিবাহ এখনো অনেক জায়গাতেই সক্রিয়। গ্রামাঞ্চলে এটা প্রকট। বিশেষ করে গ্রামীণ সমাজের কিছু অভিভাবক মেয়েদের তাড়াতাড়ি বিয়ে দেওয়াটাকে শ্রেয় মনে করে। ভবিষ্যতের আর্থিক অনিশ্চয়তায় বাবা-মায়েরা সচ্ছল অবস্থাতেই মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লাগে। যা মোটেই মঙ্গলজনক নয়। এটি যেমন মেয়েদের মানসিক পরিপক্বতা অর্জনে বাধাগ্রস্ত করে, অন্যদিকে অল্প বয়সে সন্তান ধারণের ফলে তাঁদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এমনকি অনেক সময় নানান জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে তাদের অকালে মৃত্যুবরণও করতে হয়। তাই এই বাল্যবিবাহ অভিভাবকদের কাছে সমাধানের পথ মনে হলেও আসলে তা শুধু জটিলতাই সৃষ্টি করে। অনেক সময় এর ফলে একটি মেয়ে পারিবারিক দায়দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার মতো সক্ষমতা অর্জন করতে না পারায় তার মধ্যে একধরনের হতাশা ও ভয়-ভীতির তৈরি হয়। অনেকে আবার অল্প বয়সের দরুন নতুন পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে না। যা পারিবারিক অশান্তি সৃষ্টির একটি নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। তার চেয়ে বড় কথা হলো স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা একজন মা কোনোদিনই একজন স্বাস্থ্যবান সন্তানের জন্ম দিতে পারে না। বিকলাঙ্গ ও অপরিপুষ্ট সন্তান জন্মের আশঙ্কাই বেশি। তাই বাল্যবিবাহ একধরনের অপরাধও বটে। সুতরাং প্রত্যেক বাবা-মায়ের উচিত বাল্যবিবাহের ব্যাপারে সচেতন হওয়া।

মুহাম্মদ আবু হানিফ

পশ্চিম এলাহাবাদ, চন্দনাইশ, চট্টগ্রাম