করোনাভীতি কাটিয়ে শুরু আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সব

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২১, ২২:১৪

প্রদর্শিত হবে বাংলাদেশসহ ৭৩ দেশের ২২৭ চলচ্চিত্র

ইত্তেফাক রিপোর্ট

রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের আয়োজনে রাজধানীতে শুরু হলো ১৯তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সব ২০২১। এবারের উত্সবে বাংলাদেশসহ ৭৩টি দেশের ২২৭টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। এর মধ্যে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র রয়েছে ১০৭টি, স্বল্পদৈর্ঘ্য ও স্বাধীন চলচ্চিত্রের সংখ্যা ১২০টি। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র থাকছে ৪১টি। যার মধ্যে ৩৩টি স্বল্পদৈর্ঘ্য ও স্বাধীন এবং আটটি পূর্ণদৈর্ঘ্য। মুজিব শতবর্ষ সামনে রেখে ১৯তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সব-২০২১, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি উত্সর্গ করা হয়েছে।

‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’ স্লোগানে গতকাল শনিবার জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তনে নয় দিনের এই উত্সবের উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হকের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন উত্সব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল, ম. হামিদ প্রমুখ।

ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, সামাজিক-অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক ভেদাভেদ ভুলে সব সভ্যতার মানুষকে একত্রিত করতে পারে চলচ্চিত্র। তাই চলচ্চিত্র উত্সব সমাজে ইতিবাচক মানসিকতা তৈরির জন্য গুরত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এ ধরনের উত্সবের মধ্য দিয়ে সৃজনশীল মানুষের মিলন ঘটে। এর মধ্য দিয়ে দেশের সংস্কৃতি, সমাজ ও মানুষের সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এ উত্সবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র এগিয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, ওটিটি প্ল্যাটফরমগুলো নিজেদের চলচ্চিত্র আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিবেশনার সুযোগ করে দিয়েছে, তাই দেশের নির্মাতাদের ওটিটি প্ল্যাটফরমের উপযুক্ত চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান জানান।

বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারত ও বাংলাদেশ একত্রে অনেকগুলো কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে দুই দেশের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিতব্য বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক ‘বঙ্গবন্ধু’। তিনি আরো বলেন, ঢাকায় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবের উদ্বোধন হয়েছে। একই সময়ে ভারতের গোয়ায়ও আরেকটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সব শুরু হচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশ হচ্ছে ফোকাস কান্ট্রি। আমি মনে করি, সৃজনশীল এবং চলচ্চিত্রপ্রেমী মানুষদের জন্য এটি একটি দারুণ উত্সব।

উদ্বোধন পর্ব শেষে প্রদর্শিত হয় ফ্রান্সের চলচ্চিত্র ‘স্প্রিং ব্লোসম’। জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তন ও কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তন, কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তন, শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা ও সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তন, শিল্পকলার নন্দনমঞ্চ, বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্স এবং সীমান্ত স্কয়ার সিনেপ্লেক্সসহ আট মিলনায়তনে একযোগে প্রদর্শিত হবে উত্সবের চলচ্চিত্রগুলো।

এছাড়া লাগভেলকি অনলাইন প্ল্যাটফরমেও উত্সব চলাকালে নির্বাচিত চলচ্চিত্রগুলো দেখা যাবে। এশিয়ান ফিল্ম প্রতিযোগিতা বিভাগ, রেট্রোস্পেকটিভ বিভাগ, বাংলাদেশ প্যানারোমা, সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড, চিল্ড্রেন ফিল্মস, স্পিরিচুয়াল ফিল্মস, ‘লিজেন্ডারি লিডারস হু চেঞ্জ দি ওয়ার্ল্ড’, ট্রিবিউট শর্ট অ্যান্ড ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম এবং উইমেন্স ফিল্ম মেকার বিভাগে প্রদর্শিত হবে উত্সবের ছবিগুলো। ২৪ জানুয়ারি শেষ হবে নয় দিনের এই উত্সব।