ট্রাম্পের কাছে সামরিক শাসন জারির প্রস্তাব দেন তার সমর্থক!

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২১, ২২:৪৯

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক এক ব্যবসায়ী হোয়াইট হাউজে তার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় কি সামরিক শাসন জারির প্রস্তাব নিয়ে যাচ্ছিলেন? ওয়াশিংটন পোস্টের একজন স্টাফ ফটোগ্রাফার এই ব্যবসায়ীর হাতে ধরা কাগজপত্রের যে ছবি তুলেছেন, সেটি দেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় সেরকম আলোচনাই চলছে। সব বড় বড় মার্কিন সংবাদপত্রে গতকাল খবরটি বেশ ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে হোয়াইট হাউজে যান ব্যবসায়ী মাইকেল লিন্ডেল, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘মাই পিলো?’ নামে একটি কোম্পানির প্রধান নির্বাহী। এটি মূলত বিছানা ও বালিশ বিক্রির একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।            তিনি যখন ওয়েস্ট উইংয়ের দিকে যাচ্ছেন, তখন তার ছবি তোলেন ওয়াশিংটন পোস্টের স্টাফ ফটোগ্রাফার জ্যাবিন বটসফোর্ড। ছবিতে লিন্ডেলের হাতে ধরা কাগজপত্রে যেসব কথাবার্তা লেখা, তার পাঠ উদ্ধার করে অনেকে আঁতকে উঠেছেন। টুইটারে অনেকে এমন মন্তব্য করেছেন যে, লিন্ডেলের হাত ধরা নোট পড়ে মনে হচ্ছে তিনি যেন সামরিক শাসন জারির প্রস্তাব করতে যাচ্ছেন।

২০ জানুয়ারি নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেবেন জো বাইডেন। কিন্তু ট্রাম্প এখনো দাবি করে যাচ্ছেন, তিনিই নির্বাচনে জিতেছেন এবং কারচুপির মাধ্যমে বাইডেনকে জয়ী দেখানো হচ্ছে। গত ৬ জানুয়ারি তার হাজার হাজার সমর্থক ক্যাপিটল ভবনে সহিংস হামলা চালিয়েছে, যে কারণে ট্রাম্প এখন বেশ বেকায়দায় আছেন। এরই মধ্যে প্রতিনিধি পরিষদে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো অভিশংসিত হয়েছেন।

মাইকেল লিন্ডেল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একজন কট্টর সমর্থক। গত শুক্রবার তিনি তার ফেসবুক পাতায় পোস্ট দিয়েছেন, ‘সবাই বিশ্বাস রাখুন! আমরা আরো চার বছর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আমাদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে পাব।’ ও?য়াশিংটন পোস্টের ফটোগ্রাফারের তোলা ছবিতে তার হাতে ধরা নোটের যেসব লেখা পড়া যাচ্ছে তার একটি হচ্ছে, মার্শাল ল ইফ নেসেসারি (প্রয়োজনে সামরিক শাসন)। আরেক জায়গায় লেখা, মুভ ক্যাশ প্যাটেল টু সিআইএ একটিং (ক্যাশ প্যাটেলকে সিআইএর ভারপ্রাপ্ত...)।

ক্যাশ প্যাটেল হচ্ছেন ট্রাম্পের বিশ্বস্ত একজন কর্মকর্তা, যাকে নির্বাচনের পর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। সেখানে তিনি বাইডেনের টিমের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের কাজে বাধা সৃষ্টি করছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। সিএনএন এ বিষয়ে জানতে চাইলে লিন্ডেল তার নোটে ‘মার্শাল ল’ লেখার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। ট্রাম্প নির্বাচনে পরাজিত হলে সেক্ষেত্রে সামরিক শাসন জারির পক্ষে মত দিয়েছিলেন তার কিছু সমর্থক। তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন রজার স্টোন।  এদিকে জো বাইডেন শপথ নেওয়ার আগেই হোয়াইট হাউজ ছাড়বেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শুক্রবার ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০ জানুয়ারি সকালেই ফ্লোরিডার মার-এ-লেগো রিসোর্টের উদ্দেশে রওনা হবেন ট্রাম্প। তবে এ নিয়ে এখনো প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বাইডেনের অভিষেক অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। ১৮৬৯ সালের পর এই প্রথম কোনো বিদায়ী প্রেসিডেন্ট তার উত্তরসূরির অভিষেক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন না। অন্যদিকে, ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যকে কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন ট্রাম্প প্রশাসনের হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিস মন্ত্রী অ্যালেক্স আজার।