বাংলাদেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। হাঁটি হাঁটি পা পা করে ৫০তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন করছে। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সুবর্ণজয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে সংস্কৃতির রাজধানী নামে পরিচিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। বিগত ৪৯ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও ঐতিহ্য। বর্ণিল সাজে সেজেছে ক্যাম্পাস। সুবর্ণজয়ন্তীকে ঘিরে নানা জল্পনাকল্পনা থাকলেও মহামারি করোনা পরিস্থিতির কারণে পূর্ণতাদানে সম্ভব হচ্ছে না। অন্য বছরগুলোতে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকলেও এবারে করোনা মহামারির কারণে নেই কোনো উত্সব অনুষ্ঠান। বিগত এই ৪৯ বছরের সূদীর্ঘ সময়ে জানবিবিকে নিয়ে চাওয়া-পাওয়া, না পাওয়া, প্রত্যাশা— সবকিছু মিলিয়ে সুবর্ণজয়ন্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক জন শিক্ষার্থীর অভিব্যক্তি তুলে ধরেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী— জুবায়ের হাসান
দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ আবাসিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে নানা সাফল্য আর সম্ভাবনার মধ্য দিয়ে আজ সেই বিশ্ববিদ্যালয় ৫০ বছর তথা সুবর্ণজয়ন্তীতে উপনীত হয়েছে। দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত, অতিথি পাখির কলকাকলীতে মুখোরিত আর নৈসর্গিক সৌন্দর্যের আঁধার হিসেবে খ্যাত এই বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে এবার ব্যাপক আয়োজন করার কথা থাকলেও বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী মহামারির দরুণ পূর্বের পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে হয়েছে। সেই মার্চ মাস থেকে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ। তাই অনেকটা নিরবে নিভৃতে পালিত হচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী। তবে আশা রাখি অচিরেই এই মহাদুর্যোগের অবসান ঘটবে। শিক্ষার্থীরা আবার ক্যাম্পাসে ফিরে আসবে। তাদের পদচারণায় শহিদ মিনার, ক্যাফেটেরিয়া, টারজান, চৌরঙ্গী, ট্রান্সপোর্ট, টিএসসি ও বটতলা আবার প্রাণের কোলাহলে মুখোরিত হবে।
—নাজমুল হাসান
শিক্ষার্থী, ফার্মেসি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
প্রতিষ্ঠার ৪৯ বছর পেরিয়ে পথচলার ৫০ বছরে পদার্পণ করল অফুরন্ত আলোর ঝর্ণাধারায় উত্সারিত ভালোবাসার জাবি। একজন বর্তমান শিক্ষার্থী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জ্বল অর্জনে পুলক অনুভব করি। প্রিয় ক্যাম্পাস, কতশত প্রিয় মুখের মুগ্ধতা! অতীতের ধারাবাহিকতায় বর্তমানেও দেশ এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে অবদান রেখে চলেছেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের তীর্থভূমি ও অতিথি পাখির অভয়াশ্রম ‘জাবি’ আমাকে বারবার মুগ্ধ করে। অপার সৌন্দর্যের সঙ্গে সাফল্যর অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখবে সেই প্রত্যাশা।
—মেহেদী হাসান তাজ
শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
শুভ ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী প্রিয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিবছর দিনটিকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার মধ্যে এক অন্যরকম আনন্দ-উচ্ছ্বাস কাজ করে। এবার করোনা মহামারির কারণে পরিস্থিতি যদিও একটু ভিন্ন তবুও আনন্দের এতটুকুও কমতি নেই। প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের অভিভাবক হিসেবে পাশে পেয়েছি। শিক্ষা, সংস্কৃতি, গবেষণা ও অন্যান্য গঠনমূলক কাজে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরো অনেক সাফল্য অর্জন করবে দেশের প্রথম এবং একমাত্র এই আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়টি এটাই প্রত্যাশা। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিবছর সেশনজটমুক্ত, শিক্ষাবান্ধব, সুন্দর পরিবেশে শিক্ষালাভ করে হাজার হাজার শিক্ষার্থী যেন সুশিক্ষিত মানুষ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বয়ে আনতে পারে এটাই কাম্য। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুধু ডিগ্রি অর্জনই যেন আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য না হয়, বিবেকবান, আদর্শ মানুষ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকে যেন আমরা ধরে রাখতে পারি এটাই চাইব।
—তানবীন জাহান ফেরদৌসী ঔশী
শিক্ষার্থী, ফার্মেসি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
আমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হতে পেরে খুবই আনন্দিত। মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে আচ্ছাদিত ক্যাম্পাস থাকা সত্ত্বেও আবাসন সংকট, সেশনজট, রাজনৈতিক বিবাদ আমাদের দেখিয়ে দেয় অপ্রাপ্তির বিষণ্নতা। সব অপ্রাপ্তির ছায়া ছাপিয়ে শিক্ষা, গবেষণা, সংস্কৃতি ও খেলাধুলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভাবনীয় এবং প্রশংসনীয় অবদান রেখেছে সবসময়। শিগগিরই সব অপ্রাপ্তি পূর্ণতা পাবে, সব বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে আমার প্রিয় জানবিবির জয়ধ্বনি ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বব্যাপী ইনশাআল্লাহ। জন্মদিনের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়।
—রিমা আক্তার
শিক্ষার্থী, ফার্মেসি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
