মহিলা অঙ্গন প্রতিবেদক
সম্প্রতি রাজধানীর কলাবাগানে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশ। ঘটনার বিষয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে (কনফারেন্স লাউঞ্জ) সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে ন্যায়বিচার প্রাপ্তি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে পরিবার সংশয় প্রকাশ করে। ঘটনার শিকার স্কুলছাত্রীর পিতা আল-আমিন আহমেদ জানান, তিনি তার মেয়েকে হারিয়েছেন। এখন একটাই চাওয়া, যেন নিরপেক্ষ তদন্তসাপেক্ষে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হয়। এসময় তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের জন্য সরকার ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা কামনা করেন। ঘটনার শিকার স্কুলছাত্রীর মাতা শাহনূরী আমিন বলেন, তার মেয়েকে নির্যাতন করে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। তিনি হাসপাতালে গিয়ে দিহান ও তার তিন বন্ধুকে দেখতে পেয়েছিলেন। তারা দিহান ও তার বন্ধুদের নামে মামলা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দিহানের নাম ছাড়া অন্যদের নাম আনা হয়নি। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ সময় ভিকটিমের মা এবং তার সহপাঠীরা ন্যায়বিচারের দাবিতে চারটি দাবি তুলে ধরেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, বিভিন্ন সময়ে নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, যার মাত্রা ভিন্ন। প্রত্যেক অপরাধের প্রকৃতির ভিন্নতা আছে। যে ঘটনার শিকার হয় তার প্রতি সহানূভুতির পরিবর্তে দোষারোপ করা হয়। তার ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে বিভিন্ন বাধার সৃষ্টি করা হয়। ক্ষমতা ও অপরাধ দুটো পাশাপাশি চলছে। স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাও ব্যতিক্রম নয়। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাকি তিন জনের কথা মিডিয়াতে আসছে না, ভিকটিমের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকলেও তার উল্লেখ নেই। এসব বিষয় ঘটনার সুষ্ঠু বিচারকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে মনে করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। তিনি আরো বলেন, অভিযুক্ত দিহানের পরিচয় ও তার সারা বছরের আচরণ কেমন, সে বিষয়ে কেউ প্রশ্ন করছে না। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তসাপেক্ষে ন্যায়বিচারের জন্য মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনামূলক রায় অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে অভিযোগ কমিটি গঠন ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব নেওয়া; ধর্ষণের ঘটনা বিচারে সংশোধিত আইনের বিষয়ে সবাইকে জানানো; ধর্ষণের শিকার নারী ও কন্যার পরিবর্তে ধর্ষককে প্রমাণ করতে হবে যে, সে ধর্ষণ করেনি—এমন আইন চালুকরণ; ভিকটিমকে দোষারোপ না করা এবং স্কুল-কলেজে প্রজনন স্বাস্থ্যবিষয়ক কোর্স চালু করা; দেশের ভবিষ্যত্, তরুণেরা কীভাবে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে তার কারণ খুঁজে বের করে তা থেকে দূরে রাখার ব্যবস্থা, অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিতকরণে পদক্ষেপ গ্রহণ, ধর্ষণের ঘটনার বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করা, প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের বিষয়ে আরো বিশ্লেষণ করে কঠোর নীতিমালা তৈরি করার বিষয়ে সুপারিশ তুলে ধরেন।
