একটা গাছ সারা জীবন যে পরিমাণ অক্সিজেন দেয় তা সিলিন্ডারে ভরে বিক্রি করলে তিন কোটি টাকার অক্সিজেন হবে বলে এক উদ্ভিদবিজ্ঞানীর মত। অর্থাত্ গাছ না থাকলে অক্সিজেন শূন্য পৃথিবীতে কোনো প্রাণীর অস্তিত্ব থাকবে না। জীবনের প্রয়োজনে, জীবিকার তাগিদে অবাধে গাছ কাটার অলিখিত প্রতিযোগিতা চলছে! শুধু তা-ই নয়, গাছের গায়ে পেরেক বা লোহা ঠুকে সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড লাগানো চলছে সর্বত্র। অথচ গাছের গায়ে পেরেক ঠুকে সাইনবোর্ড-বিলবোর্ড লাগানো দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করে আইন পাস হওয়ার পর কিছুদিন অভিযান চললেও বর্তমানে সে আইনের কোনো প্রয়োগ নেই। ফলে গাছে পেরেক ঠোকা হচ্ছে নিয়মিত। গাছে পেরেক ঠুকে নির্বাচনি পোস্টার, সমাবেশে আমন্ত্রণ, জাতীয় নেতা-নেত্রীদের আগমনের শুভেচ্ছা, বিশেষ দিবসের শুভেচ্ছা জানানো থেমে নেই। শহরাঞ্চলের প্রায় সব গাছই লোহা বা পেরেকের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত। গাছগুলো যেন একেকটা জীবন্ত বিজ্ঞাপন বোর্ড!
২০০২ সালের ৭ জুলাই জাতীয় সংসদে গাছে পেরেক ঠুকে বিজ্ঞাপন সাঁটানোর রোধে একটি আইন পাস হয়। আইনটি কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। অনেক চিকিত্সকের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের বিজ্ঞাপন করতে গাছই যেন একমাত্র অবলম্বন। গাছের শরীর ছিদ্র করে বিজ্ঞাপন টাঙানোর বিষয়টি অত্যন্ত মর্মান্তিক। নেমপ্লেট বা সাইনবোর্ড সাঁটানোর প্রয়োজন হলে গাছের গায়ে রশি দিয়ে তা বেঁধে রাখলেই গাছটি বাঁচে। আমাদের মতো গাছেরও জীবন আছে—এটা মাথায় রেখে গাছ রক্ষা করুন।
ইমাম হোসেন, মীরসরাই, চট্টগ্রাম
