ইত্তেফাক রিপোর্ট
করোনা ভাইরাসের ভ্যাক্সিন নিয়ে বাণিজ্য বন্ধ করে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে দেশের সব নাগরিককে তা বিনা মূল্যে সরবরাহের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে দলটির নেতারা এ দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, করোনা মহামারিতে দেশের মানুষের অর্থনীতি ও জীবন যখন বিপর্যস্ত, সেই সময় সরকারের প্রশ্রয়ে একদল মুনাফালোভী দুর্বৃত্ত মাস্ক, পিপিই, করোনা পরীক্ষা ও চিকিত্সা নিয়ে দেশে নৈরাজ্য ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করেছিল। এই দুর্নীতিবাজ লুটপাটকারীদের হাত থেকে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা রক্ষার জন্য দেশবাসী লড়াই করছে। এখন নতুন করে করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে বাণিজ্য শুরু হয়েছে। দুই ডলার মূল্যের অক্সফোর্ডের টিকা সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে তিন ডলার দিয়ে কিনে তা পাঁচ ডলারে সরকারকে সরবরাহ করবে সরকারের এক উপদেষ্টার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এর মাধ্যমে কোনো টেন্ডার ছাড়াই ঐ প্রতিষ্ঠানকে ৩ কোটি ডোজ ভ্যাকসিনের জন্য ৬ কোটি ডলার বা ৫০০ কোটি টাকা মুনাফা করার সুযোগ করে দিল সরকার। এছাড়াও তারা বেসরকারিভাবে আমদানির অনুমতিও সরকারের কাছ থেকে আদায় করে নিয়েছে, যা ১৩ ডলারে বিক্রি করে মুনাফা লুটবে। অথচ মাত্র ১০ হাজার কোটি বরাদ্দ করলে গবেষণার মাধ্যমে নিজেদের দেশে টিকা তৈরি অথবা সরাসরি অক্সফোর্ডের টিকা সরকারি উদ্যোগে এনে দেশের ১৬ কোটি মানুষকে দেওয়া সম্ভব ছিল।
বাসদ নেতারা বলেন, ভারতে করোনার টিকা দেওয়া শুরু হলেও বাংলাদেশে কবে আসবে তা এখনও নিশ্চিত করে বলতে পারছে না সরকার। এতে দেশের নাগরিকদের ভ্যাকসিন পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সমাবেশে বলা হয়, করোনায় যখন দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের আয় কমেছে, প্রায় ১১ কোটি মানুষ চরম অর্থনৈতিক ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে, অসংখ্য মানুষ কর্মহীন-বেকার হয়ে পড়েছে, তখন একদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দেশের মানুষ দিশেহারা, অন্যদিকে গণশুনানির নামে গণনাটক মঞ্চস্থ করে বিইআরসি এলপি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির চক্রান্ত করছে। বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন—বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন, বাসদ ঢাকা মহানগর কমিটির সদস্য সচিব জুলফিকার আলী, সদস্য খালেকুজ্জামান লিপন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি আল কাদেরী জয়।
