শিশু ধর্ষণ মামলার তদন্তে অসংগতি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এসপি ও সিভিল সার্জনসহ ১৩ জনকে তলব

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২১, ২২:৪৫

ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ধর্ষণের শিকার হয় সাত বছরের এক শিশু। এ ঘটনায় তার বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন। ঐ মামলায় শিশুটির ধর্ষণের জন্য আরেক শিশুকে দায়ী করা হয়, যার বয়স জন্মসনদ অনুযায়ী ১১ বছর। এই মামলার তদন্তে গাফিলতি ও ভিকটিমের ধর্ষণসংক্রান্ত ভিন্ন ভিন্ন মেডিক্যাল রিপোর্ট দেওয়ায় ব্রাক্ষণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৩ জনকে তলব করেছে হাইকোর্ট। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি তাদের সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও পুলিশের আইজিকে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট চিকিত্সকদের দায়িত্বে অবহেলা ও ঘটনার তদন্ত করে  একমাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত মামলার শুনানি নিয়ে বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. জাহিদ সারওয়ার কাজলের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল রবিবার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দেন। তদন্ত কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি হাইকোর্ট ধর্ষণ মামলার কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছে। 

আদালত বলেছে, প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে মামলার তদন্তে তদন্ত কর্মকর্তা ও ভিকটিমের মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রদানে চিকিত্সকদের গাফিলতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছে, সেটা তদন্তে বেরিয়ে আসবে বলে মনে করি। আদালতে রাষ্ট্র পক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মনিরুল ইসলাম ও আসামিপক্ষে মো. শাহপরান চৌধুরী শুনানি করেন।

ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নাসিরনগরে একটি গ্রামে গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর ধর্ষণের শিকার হন সাত বছর বয়সি এক শিশু। বসতঘরের পাশে খেলতে গেলে পাশের বাড়ির এক শিশু তাকে ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এ ঘটনার সাত দিন পর নাসিরনগর থানায় মামলা করেন শিশুটির বাবা। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় এসআই আরিফুর রহমানকে। তদন্ত তদারকির দায়িত্বে ছিলেন ব্রাক্ষণবাড়িয়ার এসপি ও নাসিরনগর থানার ওসি। মামলার এজাহারে আসামির বয়স উল্লেখ করা হয় ১৫ বছর।

আইনজীবীরা জানান, ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে পরদিন নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীকালে ৮ সেপ্টেম্বর শিশুটিকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ অবস্থায় ৬ সেপ্টেম্বর নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একটি ডাক্তারি প্রতিবেদন দেওয়া হয়। এরই মধ্যে আসামি হাইকোর্টে আগাম জামিন চায়।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মনিরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মেডিক্যাল রিপোর্টে উল্লেখ করেছে ‘নো এক্সটারনাল ফাইন্ডিং’। আবার সদর হাসপাতাল বলেছে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যৌন নির্যাতনের ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে চিকিত্সকরা বলেছে, এটা করনিক ভুল, যা অনিচ্ছাকৃত। এই অসঙ্গতির কারণে হাইকোর্ট তলবের আদেশ দিয়েছে।