নারী ও মানবাধিকার আন্দোলনের অগ্রণী নেত্রী এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানমের স্মরণসভায় বক্তারা বলেছেন, আয়শা খানম জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সমাজের সর্বত্র সাম্য ও মৈত্রী প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে গেছেন। তিনি নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নারী আন্দোলন, অসাম্প্রদায়িকতা ও প্রগতিশীলতার আন্দোলনে গোটা জীবন উত্সর্গ করে গেছেন। তিনি বলতেন, ‘নারী আন্দোলন একটি নকশিকাঁথা। আমি একা পারব না, তুমিও একা পারবে না। এখানে সবাইকে কিছু না কিছু বুনে যেতে হবে।’ গতকাল বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে অনলাইনে এই স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম।
ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ‘আমরা স্বল্প সময়ের মধ্যে চার জনকে হারিয়েছি। অত্যন্ত বেদনার ভার নিয়ে আমরা পথ চলেছি। ষাটের দশকে আয়শা খানম যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন, তখন তিনি ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হচ্ছিলেন। সত্তর ও আশির দশক পর্যন্ত নারী আন্দোলনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়, এর পেছনে আয়শা খানমের অবদান রয়েছে। পাশ্চাত্যের নারী আন্দোলন ও জাতীয় আন্দোলনের সঙ্গে এই সংগঠনকে (বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) যুক্ত করতে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে কাজ করেছেন তিনি। নারী আন্দোলনকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার মূল কাজটা করেন তিনি।’
সীমা মোসলেম বলেন, নারী আন্দোলনকে সামাজিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে তিনি দূরদর্শিতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন। নারী আন্দোলনে সব শ্রেণির নারী ও পুরুষকে তিনি যুক্ত করার প্রয়াস নিয়েছেন। তার রেখে যাওয়া অসম্পূর্ণ কাজগুলো সম্পূর্ণ করার আহ্বান জানান সীমা মোসলেম।
সভায় বক্তারা আয়শা খানমের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তার যোগাযোগ তৃণমূল থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গন পর্যন্ত। একজন মুক্তিযোদ্ধা ও প্রগতিশীল ব্যক্তিত্ব ছিলেন আয়শা খানম। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য, অভিন্ন পারিবারিক আইনের খসড়া প্রণয়নের জন্য, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য, ধর্ষণের বিচারের ঘটনায় টু-ফিঙ্গার টেস্ট নিষিদ্ধের দাবিতে এবং জেন্ডার বাজেট বিশ্লেষণের কাজ তিনি জোরালোভাবে করেছেন। দাবি আদায়ে তার কণ্ঠ সব সময় দৃঢ় ও সোচ্চার থেকেছে। সরকার বা ডোনার এজেন্সির কাছে তিনি কখনো মাথা নত করেননি। পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর নারীদের কল্যাণের লক্ষ্যেও কাজ করে গেছেন তিনি।
সভার শুরুতে প্রয়াত সভাপতি আয়শা খানমের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং প্রয়াত শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক বুলা ওসমানের মৃত্যুতে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী আজিজুর রহমান তুহিন। স্মরণসভায় আয়শা খানমের পূর্ণ জীবনবৃত্তান্ত উপস্থাপন করেন সংগঠনের ঢাকা মহানগর কমিটির সংগঠন সম্পাদক কানিজ ফাতেমা টগর।
