র ফি কু ল ই স লা ম
নাটকের বাজেট স্বল্পতা আর অসুস্থ পরিবেশের দোহাই দিয়ে অনেকেই যেখানে নাটক থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন বা বেকারত্বের হাত থেকে বাঁচতে বিকল্প পথ হিসেবে ওয়েব সিরিজ কিংবা ওয়েব ফিল্মে আশ্রয় খুঁজছেন, সেখানে প্রচলিত ধারা থেকে একটু বাইরে গিয়ে কাজ করেন বলেই অনেকেই তাকে ব্যতিক্রমী বলেও আখ্যায়িত করেন! বিশেষ নাটক এমনকি একক নাটকের ক্ষেত্রে তিনি যেন বর্তমানের অপরিহার্য এক অভিনেত্রী। সময়ের সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন নায়িকা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছেন তিনি। শুধু তাই নয়, বিজ্ঞাপনচিত্রের পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রেও সমসাময়িক অভিনেত্রীর চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন যিনি, তিনি আর কেউ নন লাক্স সুপারস্টার মেহজাবীন চৌধুরী। যিনি নান্দনিক চরিত্রে অভিনয় করে দ্যূতি ছড়াচ্ছেন এবং অভিনয় নৈপুণ্যে দর্শক মনে ঠাঁই করে নিয়েছেন।
এই সময়ে মেহজাবীন মানেই প্রযোজক ও পরিচালকদের ভরসা; দর্শকদের প্রিয়মুখ। নিজের অপূর্ণতাগুলোকে ক্রমেই পূর্ণতা দিয়েছেন নিজেকে ছন্দে ফেলে। অভিনয়গুণেই হয়ে উঠেছেন সুপারস্টার। শোবিজের আকাশে ছোট পর্দার বড় তারকা। সেদিক থেকে বলা যায়, এখন যেন পাখা মেলে উড়ছেন এই অভিনেত্রী।
মেহজাবীন চৌধুরী বলেন, ‘মডেলিং দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও অভিনয়েও নিয়মিত থাকব—এটা আগে ভাবিনি। ২০১০ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত আমি স্টিলেই ফোকাস দিয়েছি বেশি। আমার কাছে মনে হতো অভিনয় থেকে মডেলিংটা সহজ; তাই এখানেই থাকি। কিন্তু ’১৩ সালের পর থেকে অভিনয়েই বেশি মনোযোগ দেই। তখনও যখন অভিনয় করতাম, কত কথা শুনতাম মানুষের কাছে! অনেকেই বলতো, মডেলরা অভিনেতা বা অভিনেত্রী হতে পারে না।’
এদিকে মেহজাবীন নতুন বছরটা শুরু করেছেন বিজ্ঞাপন দিয়ে। এরপর অংশ নিয়েছেন ভালোবাসা দিবসের বেশ কিছু নাটকে। এরইমধ্যে শেষ করেছেন দুটি নাটক। নাটকগুলোতে মেহজাবীনের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন আফরান নিশো।
ছোট পর্দার এই বড় তারকার সিনেমা নিয়ে খুব একটা আগ্রহ নেই। তবে তার পছন্দমত গল্প ও চরিত্র পেলে যে কোনো সময়েই নাম লিখিয়ে ফেলবেন বড় পর্দায়। তিনি বলেন, ‘সিনেমা বলতে আমরা যেটা বুঝি নাচ, গান, ড্রামা—সব মিলিয়ে একটা ফুল প্যাকেজ। নাটক আর সিনেমায় অনেক পার্থক্য। তবে এখন সিনেমার আয়োজনেও নাটক বা ওয়েব ফিল্ম হচ্ছে। যেগুলো অনেক ওটিটি প্লাটফর্মে যাচ্ছে। কিন্তু পর্দার ব্যাপারটাই অন্যরকম।
যখন পছন্দমত কোনো গল্প পাব, যেখানে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করা যাবে, যেভাবে আগে কেউ আমাকে দেখেনি— সেরকম হলে অবশ্যই সিনেমা করব। তবে সেটা কবে, আমি নিজেও জানি না। নাটকে নানামাত্রিক গল্পে, চরিত্রে কাজ করছি। সিনেমায় গিয়ে যদি ভিন্ন কিছু দেখাতে না পারি তাহলে তো সেটা করে লাভ নেই। সেরকম পছন্দমত গল্প হলে আর ভালো নির্মাতা হলে হয়তো আমাকে পর্দায় দেখা যাবে।’
