সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র সক্রিয়
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ঔষধ চুরি ও পাচারকারী সংঘবদ্ধ একটি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সরকারি হাসপাতালের রোগীদের জন্য বিনামূল্যে সরবরাহকৃত ও বিক্রি নিষিদ্ধ জীবনরক্ষাকারী মূল্যবান ঔষধ মিলছে কুষ্টিয়ার ফার্মেসিতে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সম্প্রতি কুষ্টিয়া শহরের একটি ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বিপুল পরিমাণ বিক্রি নিষিদ্ধ অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশনসহ সরকারি ঔষধ জব্দ করে। হাসপাতালের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে সংঘবদ্ধ একটি চক্র এ ঔষধ চুরি ও পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গোয়েন্দা সূত্র নিশ্চিত করেছে। জানা যায়, র্যাব-১২, সিপিসি-১, কুষ্টিয়া ক্যাম্পের আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৭ জানুয়ারি কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের প্রবেশমুখে অবস্থিত ‘রাসেল ফার্মেসিতে’ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিক্রি নিষিদ্ধ ইনজেকশন জব্দ করে।
এদিকে বিক্রি নিষিদ্ধ সরকারি ওষুধ নিজ হেফাজতে রাখার দায়ে ফার্মেসি মালিক মো. আনোয়ার সাঈদ রাসেলকে হাতে-নাতে গ্রেফতার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে সহযোগী চা-দোকানদার মনিরুল মণ্ডলকে গ্রেফতার করে র্যাব। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আসামি ফার্মেসি মালিক আনোয়ার সাঈদ রাসেলকে ৯০ হাজার টাকা ও চা দোকানদার মনিরুল মণ্ডলকে ১০ হাজার টাকাসহ মোট এক লাখ জরিমানা করা হয়। অতঃপর ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুছাব্বেরুল ইসলামের নির্দেশে র্যাব হেফাজত থেকে ছাড়া পায় ওই দুই আসামি। এর আগে ১৬ জানুয়ারি একই অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ওই ফার্মেসি মালিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। উদ্ধারকৃত ওই ঔষধ কুষ্টিয়া সিভিল সার্জনের ঔষধ সংরক্ষণাগারে জমা রাখা হয়েছে। দুই দফায় বিক্রি নিষিদ্ধ সরকারি ঔষধসহ আসামিদের আটক করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। এছাড়া ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও ঔষধ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তকরণে কোনো তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়নি।
কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডাক্তার রওশন আরা জানান, সরকারি হাসপাতালের ঔষধ বাইরের দোকানে বিক্রি দুঃখজনক। এ কাজে জড়িতদের চিহ্নিত করা সম্ভব হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে তিনি জানান। র্যাব-১২, কুষ্টিয়া ইউনিটের কমান্ডার রুহুল আমিন জানান, সরকারি ঔষধ চুরির সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের চিহ্নিত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। শিগগিরই তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
