দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২১, ০২:০৯

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর যুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ ও বিচক্ষণ নেতৃত্বে বাংলাদেশ যথেষ্ট সাফল্য দেখিয়েছে। কোভিড মোকাবিলায় সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপ এবং প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের ফলে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। গতকাল বুধবার সংসদে চলতি অর্থবছরের বাজেটের প্রথম প্রান্তিকের বাস্তবায়ন অগ্রগতি বিষয়ক প্রতিবেদন উপস্থাপন করে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশিত পথে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণ নেতৃত্বের কারণে আমরা খুব শিগিগরই অনুন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পা রাখব। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দাঁড়িয়ে এই ঐতিহাসিক অর্জনটি বঙ্গবন্ধুসহ শহিদদের উদ্দেশে উত্সর্গ করতে চাই।

প্রতিবেদনে অর্থমন্ত্রী জানান, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সরকারি ব্যয় কমেছে। গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সরকারি ব্যয় কমেছে ৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ। সামনের দিনগুলোতে ব্যয় বৃদ্ধির জোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সরকারি ব্যয় ৬২ হাজার ৯১৪ কোটি টাকা, যা বাজেটের ১১ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। এ সময় ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল মোট বাজেটের ১৭ দশমিক ৯১ শতাংশ। সার্বিকভাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় মোট ব্যয় ৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ, বার্ষিক উন্নয়ন ব্যয় ২৬ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং পরিচালন ব্যয় ১ দশমিক ২৮ শতাংশ কমেছে।

করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যেও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিধারা থেমে নেই উল্লেখ করে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ২৩টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। এর মোট পরিমাণ ১ লাখ ২৪ হাজার ৫৩ কোটি টাকা। যা আমাদের জিডিপির ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ। 

করোনায় বৈশ্বিক বিপর্যয়ে বাংলাদেশের উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের ধারা কিছুটা শ্লথ হয়েছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, গতবারের তুলনায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন ৮ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।